৭৩ বছরে সাবিনা ইয়াসমিন: পাঁচ দশক ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক কণ্ঠ
বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে সক্রিয়। চলচ্চিত্রের গান থেকে আধুনিক ও দেশাত্মবোধক সংগীত, নানা ধারায় তার কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।
শৈশব থেকেই সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। মায়ের কাছেই তার সংগীতে হাতেখড়ি। মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘অল পাকিস্তান স্কুল মিউজিক কম্পিটিশনে’ প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এরপর শিশু শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পান।
১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর কয়েক দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন সাবিনা ইয়াসমিন। কবরী, ববিতা, শাবানাসহ বিভিন্ন প্রজন্মের অভিনেত্রীর পর্দার গানে তার কণ্ঠ বিশেষ পরিচিতি পায়।
চলচ্চিত্রের বাইরেও সংগীতের নানা শাখায় বিচরণ করেছেন তিনি। আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক সংগীত, পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও গজলসহ বিভিন্ন ধরনের গান গেয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে অসংখ্য গান, যার অনেকগুলোই পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন অর্জন করেছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা সম্মাননা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। দেশের সংগীতাঙ্গনে তার অবদান তাকে এনে দিয়েছে কিংবদন্তির মর্যাদা।
সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন, শ্রোতার রুচি ও প্রযুক্তিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। তবে এসব পরিবর্তনের মধ্যেও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের আবেদন অটুট রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার গান শুনে বড় হয়েছে। ৭২ বছর পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা রাখা এই শিল্পী তাই আজও বাংলা গানের জগতে স্বতন্ত্র ও উজ্জ্বল এক নাম।
মতামত দিন