কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৩, আহত ৮৬
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত (২ জুলাই) পর্যন্ত দফায় দফায় এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, আকস্মিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পুরো রাজধানী কেঁপে ওঠে। হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত ৮৬ জনের মধ্যে ৭০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেয়র আরও জানান, হামলার তীব্রতায় শহরের কেন্দ্রীয় শেভচেঙ্কো বুলেভার্ড এলাকার একটি হোটেলের ছাদে আগুন ধরে যায়। এছাড়া একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ৯ তলা ভবনটির ৬টি তলা সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জরুরি উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া সেই ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবিত ও মৃতদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, রাতভর চলা এই হামলায় রাজধানীর অন্তত ৩৬টি স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাতভর প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন।
এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে রাশিয়া বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে। কিয়েভে এই ভয়াবহ হামলার খবর পেয়ে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
মতামত দিন