ইউক্রেনের একাধিক শহরে রুশ হামলায় নিহত ৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত চারজন প্রাণ হারান এবং তিন শিশুসহ আরও ২০ জন আহত হন।
চেরনিহিভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। হামলায় ভবনটির একটি প্রবেশপথের একাংশ ধসে পড়েছে।
এদিকে কিয়েভে মধ্যরাতের পর ৩টার দিকে একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। সামরিক প্রশাসন জানায়, সেখানে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শহরের পোদিলস্কি জেলায় একটি ভবনে রকেট আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। এছাড়া দারনিতস্কি জেলায় গ্যারেজ কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
কিয়েভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, কিয়েভের আশপাশের এলাকাতেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এতে ওবুখিভ জেলায় তিনটি উৎপাদন ও সংরক্ষণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে পোলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুক শহরে রুশ হামলায় আরও দুজন নিহত এবং সাতজন আহত হন। পোলতাভার আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিটালি ডিয়াকিভনিচ জানান, দুর্ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ এটাই চায়—যেন আমরা রাতে ঘুমাতে ভয় পাই, সন্তানদের চোখের আড়াল করতে ভয় পাই। তারা মানুষের মনে এই আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায় যে, পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তার নিজের ঘরটি।’
এর আগে মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছিলেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক ড্রোন তৈরির কারখানা এবং সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে তারা এ হামলা চালিয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কিয়েভ, চেরনিহিভ, কিলোভোহরাদ, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা এবং খারকিভ অঞ্চলের পাশাপাশি ওডেসা অঞ্চলের বন্দর ও জাহাজ মেরামত কেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়। এছাড়া ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর মালামাল পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: এপি
মতামত দিন