ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১৪, পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ঢোকার অভিযোগ
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ব্যাপক বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুসহ নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনে পৌঁছেছে, যদিও কিছু আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এখনো আট থেকে তেরো জনের মধ্যে সংখ্যাটি জানাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটেনি এবং তা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোররাতে রাজধানী কিয়েভে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড একই সময়ে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। এই হামলা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্স দিতে সম্মত হয়েছেন।
পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শহরের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানান, হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং মোট ২০টির বেশি আবাসিক ভবন, একটি স্কুল ও দুটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লভিভের উপমেয়র সের্হি কিরাল জানান, শহরের একাধিক স্থানে উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং মার্চ মাসে ড্রোন হামলার পর এটিই শহরের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। লভিভে হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোমানিয়া সীমান্তবর্তী ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহর ও এর আশপাশের অঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এবং দেশটির পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বহু ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
হামলা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লেখেন, বিমান প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের মধ্যেও ইউক্রেনীয় সেনারা উচ্চমাত্রার পেশাদারত্ব দেখিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছেন। তিনি আরও বলেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল ইউক্রেনের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বরং এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর সময়মতো সহায়তা ও প্রতিশ্রুতিই মানুষের জীবন রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ থেকে লভিভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং ওদেসার কাছে কৃষ্ণসাগরে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামবাহী তিনটি জাহাজেও আঘাত হেনেছে। মস্কোর এই দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মতামত দিন