Views Bangladesh Logo

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ২০

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে চালানো ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এ ছাড়া চেরনিহিভ, ক্রেমেনচুক ও রাজধানী কিয়েভে পৃথক হামলায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব হামলার ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনিপ্রোর প্রধান রেলস্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় জেট ইঞ্জিনচালিত একটি ড্রোন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা।

একই দিন উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ শহরের ব্যস্ত সড়কে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হন। এ ঘটনায় চার শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মধ্যাঞ্চলীয় ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবন ও ব্যক্তিগত স্থাপনায় হামলায় প্রাণ গেছে তিনজনের। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।

দিনিপ্রো শহরেও রেলস্টেশনের বাইরে পৃথক হামলায় একটি শিক্ষার্থীদের আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। শহরটির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় তিনটি পৃথক হামলায় কয়েকটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছয়জন আহত হন।

রাতের দিকে রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। শহরটির সামরিক প্রশাসন জানায়, রাত ১১টার কিছু আগে কয়েকটি এলাকায় হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এতে কয়েকটি গুদামে আগুন ধরে যায়। দিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। এ ধরনের হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও হামলাগুলোকে নিষ্ঠুর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যখন সবাই উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে, তখন রাশিয়া নতুন করে হামলা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, রাশিয়া আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে ইউক্রেন। এসব হামলা প্রতিহত করতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।

এদিকে দেশজুড়ে হামলা চললেও দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের একটি অংশে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ সমঝোতার আওতায় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে শহরটি যুদ্ধের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির আওতায় দুই পক্ষই ওই এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে শহরটিতে খাদ্য, পানি ও ওষুধসহ জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর পাশাপাশি যারা এলাকা ছেড়ে যেতে চান, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খেরসনের এই সীমিত যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আয়োজনের উদ্যোগ চলছে। তবে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে হামলা অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের রেল যোগাযোগ, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় হামলা মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মস্কো।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ