প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর আইএবির অ্যাক্রেডিটেশন পেল রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ
প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) স্থাপত্য বিভাগ। আইএবির স্থাপত্য শিক্ষা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে রুয়েটের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রমকে পাঁচ বছরের জন্য শর্তহীন স্বীকৃতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ২৬তম নির্বাহী পরিষদ। গত ১ জুলাই থেকে এ অ্যাক্রেডিটেশন কার্যকর হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই রুয়েটের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে আইএবির পক্ষ থেকে স্বীকৃতির বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রুয়েটের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রম আইএবির স্থাপত্য শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত প্রয়োজনীয় মান ও শর্ত পূরণ করেছে। পরে বোর্ডের সর্বসম্মত সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ অ্যাক্রেডিটেশন অনুমোদন করে।
রুয়েটে স্থাপত্য বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে পাওয়া এই স্বীকৃতিকে বিভাগের একাডেমিক ও পেশাগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অ্যাক্রেডিটেশনের ফলে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পেশাগত স্বীকৃতির মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।
দেশের স্থপতিদের পেশাগত সংগঠন আইএবি। বাংলাদেশে পেশাগতভাবে স্থাপত্যচর্চা এবং ভবনের নকশা বা স্থাপত্য পরিকল্পনায় স্থপতি হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে সংগঠনটির সদস্যপদ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আইএবি স্বীকৃত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী রুয়েটের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সংগঠনটির সদস্যপদ পাওয়ার পথও উন্মুক্ত হবে।
এ স্বীকৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশাগত পরিসরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইএবির বিভিন্ন পেশাগত কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্থাপত্য সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এশিয়ার স্থপতিদের আঞ্চলিক সংগঠন আর্ক্যাশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এর আগে বুয়েট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রম আইএবির অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো রুয়েট। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন এই স্বীকৃতি স্থাপত্য বিভাগের একাডেমিক মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা এবং দেশ-বিদেশে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রুয়েটের স্থাপত্য শিক্ষা কার্যক্রমের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
মতামত দিন