Views Bangladesh Logo

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নকআউট পর্বে রোনালদোর প্রথম গোল

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলের অভাব কখনোই ছিল না। তবে এতদিন একটি আক্ষেপ তাকে তাড়া করে ফিরেছিল; বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনোই গোল করা হয়নি পর্তুগিজ মহাতারকার। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে নকআউট পর্বের গোলখরা কাটালেন তিনি।

টরন্টোতে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচটি ছিল পর্তুগাল ও লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে। আবেগঘন এই দিনে সতীর্থের স্মৃতিকে বুকে নিয়েই মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি রোনালদোর দল। বিরতির পর ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়তেই পর্তুগালের সামনে নেমে আসে বিদায়ের শঙ্কা।

তবে অধিনায়কের মতোই সামনে থেকে দলকে টেনে তোলেন রোনালদো। ৬৮ মিনিটে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে অসাধারণ স্থিরতায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

এর কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য বল জালে পাঠিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায়। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পেনাল্টি থেকে করা গোলটি শুধু পর্তুগালকে সমতায় ফেরায়নি, পুরো দলকেই নতুন করে উজ্জীবিত করে তোলে।

ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ে গনসালো রামোস জয়সূচক গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়াও বল জালে জড়িয়েছিল, কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এ অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। তাতেই ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় পর্তুগাল।

এই ম্যাচে মাঠে নামার আগেই আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েন রোনালদো। ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুরুর একাদশে নামা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২৯৬ দিন বয়সে তার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ও ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন।

এদিন বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেলেন রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে তিনি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার হন। এই তালিকায় তার সামনে আছেন শুধু লিওনেল মেসি।

এর আগেই চলতি বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন পর্তুগিজ মহাতারকা। আর এবার নকআউট পর্বের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে নিজের বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে যোগ করলেন আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ