Views Bangladesh Logo

রোমেরো-মার্তিনেজ: সমালোচনার জবাব দিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণে অটুট জুটি

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি ইংলিশ গণমাধ্যমের সমালোচনারও জবাব দিচ্ছেন এই দুই ডিফেন্ডার।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পর সাবেক ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন রোমেরো। নেভিল টটেনহ্যামের রোমেরো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মার্তিনেজকে বিশ্বের ‘সেরা, কিন্তু সবচেয়ে বাজে সেন্টার-ব্যাক জুটি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি ছিল, জাতীয় দলে দুর্দান্ত খেললেও ক্লাব ফুটবলে তারা প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় ভুল করে গোল উপহার দেন।

এর জবাবে রোমেরো বলেন, ‘আমি শুধু আশা করি, অবসরের পর আমি যেন এতটা বোকা না হই। কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে সমালোচনা করব না। আমরা দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। এই জার্সির গুরুত্ব আমাদের কাছে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি।

এখন স্পেনকে হারাতে পারলেই টানা কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। প্রায় এক দশক আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে জাপানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে শুরু হয়েছিল রোমেরো-মার্তিনেজের বোঝাপড়া, যা এখন জাতীয় দলে রূপ নিয়েছে দুর্দান্ত সমন্বয়ে। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মাঠে অনেক সময় কথা বলারও প্রয়োজন হয় না—একটি দৃষ্টিতেই তারা বুঝে যান কে প্রেস করবেন আর কে কভার দেবেন।

মাঠের বাইরেও তাদের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। ফুল-ব্যাক নাহুয়েল মোলিনাকে নিয়ে তারা নিজেদের ‘পালো সান্তো গ্যাং’ বলে পরিচয় দেন। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পর দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী পালো সান্তো ধূপ জ্বালিয়ে ‘অশুভ শক্তি’ দূর করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন তারা।

ক্লাব ক্যারিয়ারে অবশ্য দুই ডিফেন্ডারের লড়াই ছিল ভিন্ন ধরনের। রোমেরো আক্রমণাত্মক খেলার কারণে ২০২১-২২ মৌসুমের পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি ছয়বার লাল কার্ড দেখেছেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ ম্যাচ খেলেও এখন পর্যন্ত একবারও লাল কার্ড দেখেননি।

অন্যদিকে মার্তিনেজের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিল চোট। পায়ের হাড়, হাঁটু এবং পরে এসিএল ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। তবে সুস্থ হয়ে ফিরেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। নকআউট পর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পাশাপাশি লিওনেল মেসিকে একটি গোলেও সহায়তা করেন এই ডিফেন্ডার।

আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করবে না, রোমেরো ও মার্তিনেজের ক্লাব ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মার্তিনেজের চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, আর রোমেরোকে ঘিরেও টটেনহ্যাম ছাড়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে আরেকটি দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক প্রদর্শনী তাদের সমালোচকদের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিতে পারে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ