Views Bangladesh Logo

মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কারণে এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাত সত্ত্বেও আগের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট: রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনী ও মানবিক সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

বিএনপি ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে দুই দফায় সফল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গা তথ্য যাচাইকরণ করছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার হতে ৬টি ধাপে আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) তথ্য যাচাই করেছে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে মিয়ানমার সরকার দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়াসমূহে বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা অপরাধ সংগঠনের দায়ে একটি মামলা নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারাধীন। গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলাটিতে পরিচালনায় বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ এই আইনী প্রক্রিয়াকে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষক করছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগসমূহকে সমর্থন করছে।

জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ, আমেরিকার মত প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি দেশি পণ্যের নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে সরকার কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (পিটিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আমাদের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার হবে।

রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের তৈরি পোশাক খাতের এককেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সমৃদ্ধ বহুমাত্রিক রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন দূতাবাস ‘ডায়াস্পোরা এনগেজমেন্ট’ কার্যক্রম জোরদার করেছে।

রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে প্রক্রিয়া বেগবান করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন হলো- জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা করা। দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পারিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছি। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সিসিসিভুক্ত দেশসমূহ এবং ইরান উভয়পক্ষেই যে বাংলাদেশকে একটি বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করছে তা আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রাথমিক ফলাফল।

জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানির কোনো সংকট বাংলাদেশে নেই। একাধিক উৎস হতে জ্বালানি আমদানি করতে প্রধানমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও বিকল্প উৎস হতে জ্বালানি আমদানি করতে পারি সেজন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সেটাতে সফল হব।

দেশের জ্বালানি সংকট নেই—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা হৈ চৈ করে প্রতিবাদ জানান।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শ্রম জরি ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ও নারী দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। শ্রম জরিপ অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৩ লাখ ৬০ হাজার জনগোষ্ঠী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। ২০২৬ সালের শ্রম জরিপের পরিচালনার জন্য একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ