উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে কুয়েটে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করুন
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কুয়েট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্র-রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন। এ ঘটনায় কুয়েটের শিক্ষকদের একটি অংশও জড়িয়ে পড়েছিলেন, যাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে। ছাত্রদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে কুয়েট উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল সরকার।
এ ঘটনার ৭৮ দিন পর গত মে মাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেননি। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। জুলাই মাসে এসে ঘটনা পাঁচ মাসে গড়াল, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরলেও ফেরেননি শিক্ষকরা।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ছাত্র-রাজনীতি নিয়ে সংঘর্ষের পাঁচ মাস পার হলেও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়নি। উপাচার্য না থাকা, সংঘর্ষ ও শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেশনজট নিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ক্লাসে বসে থেকেও শিক্ষকদের না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন। কুয়েটের ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু করার দাবিতে কুয়েট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মানববন্ধন করেছেন গত শনিবার। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থার অবসান চাই। সর্বশেষ সিন্ডিকেট কমিটির যে মিটিং হয়েছিল ওই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ মে থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। যেটা এখনো কার্যকর আছে।’ তারা দ্রুত ক্লাস শুরুর দাবি জানান।
অন্যদিকে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক এবং একাডেমিক যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, উপাচার্য না এলে তা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। লিখিতভাবে এটা আমরা সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছি। এটা নিয়ে আমরা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেছি। সবাই চাচ্ছি সরকার একজন উপাচার্য দিক; শিক্ষার্থীরাও সে বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছে। উপাচার্য এলেই আশা করি সমস্যা কেটে যাবে।’
প্রশ্ন হচ্ছে, পাঁচ মাস হয়ে গেলেও কুয়েটে এখনো কেন উপাচার্য নিয়োগ দেয়নি সরকার? যেখানে এমন প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে সরকারের এত অবহেলা কেন? হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন কি সরকারের কাছে মূল্যবান মনে হচ্ছে না? উপাচার্য না থাকলেও শিক্ষকরা ক্লাসে উপস্থিত থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারতেন। পুরোনো ঘটনার জের ধরে শিক্ষকদের এখনো কেন এত রাগ? আমরা জানি শিক্ষকরা মহৎ, ছাত্রছাত্রীদের তারা সব সময়ই ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্লাসে উপস্থিত সেখানে শিক্ষকরা উপস্থিত নেই কেন? ওই ঘটনার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি কি আরও দীর্ঘদিন অচলাবস্থায় পড়ে থাকবে?
আমরা চাই দ্রুত এই অচলাবস্থার নিরসন হোক। উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে কুয়েটে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হোক। এ ব্যাপারে সরকারের তড়িৎ উদ্যোগের বিকল্প নেই। সরকার যত অবহেলা করবে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ততই বিপন্ন হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে