Views Bangladesh Logo

ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন ভারতীয় যুবক

ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) কানপুরে ভর্তি হতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেন এক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটেও প্রবেশের দাবি করেন তিনি। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত দক্ষতা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে আইআইটি-কানপুর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আইআইটি-কানপুরে চালু হওয়া সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতক কোর্সে ভর্তি হতে আবেদন করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রাথমিক বাছাইয়ে তিনি নির্বাচিত হননি। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, আইআইটি-কানপুর ও আইআইটি-মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। আইআইটি-কানপুরের ওয়েবসাইটে তিনি একটি বার্তাও রেখে যান। সেখানে লেখা ছিল, ‘ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ প্রয়োজন।’

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও রেডিটে দেওয়া পোস্টে ওই শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি প্রক্রিয়ার সব ধাপ তিনি সম্পন্ন করেছিলেন। নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিজের কাজের নমুনাও দাখিল করেছিলেন। কিন্তু তাকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়নি। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত হ্যাকাথনে অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি। তার দাবি, ওয়েবসাইটে প্রবেশের উদ্দেশ্য কোনো ধরনের ক্ষতি করা নয়; বরং নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ দেওয়া।

এ বিষয়ে আইআইটি-কানপুরের পরিচালক অধ্যাপক মনিন্দ্র আগরওয়াল বলেন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে প্রথমে নির্বাচিত করা হয়নি। তবে তিনি যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে ক্যাম্পাসে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষতা যাচাই করা হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই এখন তাকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়। তবে মূল্যায়নে তিনি যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমে তাকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অধ্যাপক আগরওয়াল আরও জানান, ওই শিক্ষার্থী আইআইটি-কানপুর ও আইআইটি-মাদ্রাজের সরকারি ওয়েবসাইটের কিছু অংশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে বোঝানো হবে, কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা আইনবিরোধী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আইআইটি-কানপুরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুরুতে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে পরে তার দাবির সত্যতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি সাইবার নিরাপত্তা, নৈতিক হ্যাকিং এবং তরুণ প্রযুক্তি প্রতিভাদের মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ