Views Bangladesh Logo

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই ‘সেরা সমাধান’: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই “সবচেয়ে ভালো সমাধান, যা ঘটতে পারে।” দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বকে প্রতিস্থাপনের পক্ষে এটি তার অন্যতম স্পষ্ট অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলছে। এর মধ্যে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি।” তবে ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেন, সেখানে এমন মানুষ আছেন” যারা দায়িত্ব নিতে পারেন। এ বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এটি সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দেবে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে রণতরীর একটি ছবিও শেয়ার করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুমকি দিলে পেন্টাগন প্রথমে ওই রণতরী মোতায়েন করে। বিক্ষোভে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে ধর্মীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর এটিকে অন্যতম বড় অস্থিরতা হিসেবে দেখা হয়।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলবে। শুক্রবার ফোর্ট ব্র্যাগে তিনি বলেন, ইরানের উচিত "আমাদের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করা, যা তাদের প্রথমবার দেওয়া উচিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। অন্যদিকে নেতানিয়াহু সরকার তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইরান “অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন, যা দেশটির অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ