Views Bangladesh Logo

আদালতের গায়েব নথি উদ্ধার করুন

তকাল সোমবার (৬ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, চট্টগ্রাম আদালতের ১ হাজার ৯১১টি মামলার নথির (কেস ডকেট বা সিডি) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার এসব নথি বিচারিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলছেন আইনজীবীরা। নথি না থাকলে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যাবে।

এ রকম একটি খবরে আমরা কেবল দুঃখিত হইনি, যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে মামলার নথি কীভাবে হারিয়ে যায়! তার মানে আদালত কতটা অরক্ষিত! মামলার নথি হারিয়ে গেলে তো মামলা চালানোই অসম্ভব হয়ে যাবে। যেখানে হত্যা, চোরাচালানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি রয়েছে, সেসব নথি কীভাবে হারিয়ে যায়? এটা স্পষ্টভাবেই আদালতের গাফিলতি প্রমাণ করে।

খবরে জানা যায়, নথিগুলোর খোঁজ না পাওয়ায় গতকাল রোববার নগরের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পিপি কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল।

আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি থানায় ডায়েরিভুক্ত করে রাখার জন্য আবেদন করা হলো। ধারণা করা যায়, যে বা যারা কাজটি করেছে সূক্ষ্ম পরিকল্পমাফিক করেছে। একটি-দুটি মামলার নথি নয়, প্রায় ২ হাজার মামলার নথি। এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি কেন শুধু পলিথিনে মোড়ানো থাকবে?

আরও জানা যায় নথিগুলো রাখা ছিল বারান্দায়। এ কথা কৌঁসুলি সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়াই সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন, নথিগুলো রাখার জন্য কক্ষ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে তিনি নথিগুলো বারান্দায় রেখেছিলেন। মামলার নথি কেন বারান্দায় রাখা হবে? আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় আদালত কেন নিরাপত্তাহীন থাকবে? আজকাল সাধারণ বাড়িঘরেও সিসি ক্যামেরা থাকে। চট্টগ্রাম আদালতে কি সিসি ক্যামেরাও নেই? তা তদন্ত করেও কি সঠিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া সম্ভব নয়? সংবাদমাধ্যমে এসব কোনো তথ্য আসেনি।

আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছোটখাটো বিষয় নয়। এগুলো গায়েব করার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা বের করতে হবে। আসামিরা মামলা থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এ কাজ করতে পারেন বলে মনে করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। এগুলো কি আসামিদেরই কাজ, না কি কোনো দুষ্টচক্র এর সঙ্গে জড়িত, তাও তদন্ত করে দেখতে হবে।

এই মামলার নথি হারানোতে কেবল যে বাদী-বিবাদীরা বিপদে পড়বেন তা না, এগুলো ব্যবহার করে আরো অনেক ধরনের রাষ্ট্রীয় অপরাধ সম্ভব। তাই মামলার নথি হারানোর বিষয়টিকে কোনোভাবেই সহজভাবে না নিয়ে অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে এগুলো উদ্ধারের জন্য। অপরাধীদের ধরতে পারলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, পাশাপাশি এসব নথি হারানোর পেছনে যদি কারও গাফিলতি থাকে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ