রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ সার্ভিস, কমবে ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আলাদাভাবে ঘুরতে হবে না। নির্দিষ্ট একটি স্থান থেকে আবেদন গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিকভাবে সময় ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, এত দিন রাজউকের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য পৃথকভাবে যেতে হতো। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ত। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে একটি সমন্বিত ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যান এ উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নতুন ব্যবস্থায় নকশা অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। একই জায়গা থেকে আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিটির এই সদস্য।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে সরেজমিনে প্রকল্প পরিদর্শন করে সময় ও ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।
আবাসন সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। শেখ মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার বিভিন্ন জটিলতার কারণে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা এফএআর–সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক ল্যান্ড ডেভেলপার প্রকল্প হাতে নিতে পারছেন না। এসব বিষয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্যাপ বিধিমালা ও নগর গৃহায়ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বিধিমালা দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবনগুলোর বিষয়ে রাজউকের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির মাধ্যমে আইনগত কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জনগণের ভোগান্তি কমানো, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানোকে কমিটির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মতামত দিন