সরকারি উদ্যোগে হলফনামার তথ্য জানতে চান রাজশাহীর মানুষ
আসন্ন সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হলফনামায় দাখিল করা সম্পদের পরিমাণ সরকারি প্রচারে জানতে চান রাজশাহীর মানুষ। একই সাথে বাৎসরিক হিসাব নির্বাচনের পর সমানুপাতিক হারে সম্পদের পরিমাণও জানতে চান তারা।
ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, রাজশাহীর ৬ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ও তাদের পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে প্রচার করা দরকার। এতে করে ২৫ শতাংশ অপরাধ সমাজ থেকে বিদায় নেবে। আর তাদের সদিচ্ছা থাকলে এবং উপরের চাপ (অন্যায় তদবির) না আসলে ২৫ শতাংশ অপরাধ নির্মূল হয়ে যাবে। সরকারি আমলাদের সদিচ্ছা ও কৈফিয়ত দেওয়ার সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য সংসদীয় ব্যবস্থা করলে রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গ থেকে দুর্নীতির সমূলে উৎপাটন ঘটবে।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সাংসদের ইচ্ছা থাকলেই দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে। ফ্যাসিস্ট আচরণ করা যাবে না। নিজেদের জবাবদিহির ঊর্ধ্বে মনে করা যাবে না।
রাজশাহীর ছয় সংসদীয় আসনের বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দিনের বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৪ লাখ ২ হাজার ৫৪৭ টাকা। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৭১ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৬ টাকা। সম্পদ ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টাকা।
একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২ হাজার ৬৮৪ টাকা। মোট সম্পত্তি ৩৬ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৩ টাকা। স্ত্রীর আয় ২ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার রয়েছে ১০ ভরি।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। মোট সম্পত্তি ৯৬ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৫ টাকা। স্ত্রীর আয় ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫২১ টাকা। সম্পদ ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার ২৩৩ টাকা।
জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও এ আসনে কোটিপতি। তার বার্ষিক আয় ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৯ টাকা। মোট সম্পত্তি ২ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৭ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৫ লাখ ৩৬৫ টাকা এবং সম্পদ ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৬ টাকা।
রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৩ টাকা। তার মোট সম্পত্তি ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার ২৫১ টাকা। স্ত্রীর আয় ১৮ লাখ ৮ হাজার ২৭৪ টাকা এবং সম্পদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার ৪২ টাকা।
জামায়াতের মো. আবুল কালাম আজাদের বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পত্তি ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮০ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং সম্পদ ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমানের বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫০২ টাকা। তার মোট সম্পত্তি ৯০ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৬ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৫ টাকা এবং সম্পদ ২৯ লাখ ৭১ হাজার ২২৮ টাকা।
জামায়াতের প্রার্থী ডা. মো. আব্দুল বারী সরদারের বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৯ হাজার ৫৭৯ টাকা। তিনিও এ আসনে কোটিপতি। তার মোট সম্পত্তি ২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৪ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং সম্পদ ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৫৪২ টাকা।
রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পত্তি ১ কোটি ৩১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং সম্পদ ১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৬ টাকা।
জামায়াতের মনজুর রহমানের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পত্তি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার ৯৭৬ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯০ টাকা এবং সম্পদ ৩৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৪ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. জুলফার নাঈম মোস্তফার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পত্তি ১ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার টাকা। রেজাউল করিমের বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৫ হাজার ৭৬৯ টাকা। তার মোট সম্পত্তি ৮ কোটি ৫০ লাখ ৯ হাজার ১৬২ টাকা।
রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির মো. আবু সাইদ চাঁদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পত্তি ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। জামায়াতের মো. নাজমুল হকের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ১ হাজার ৪৯৯ টাকা। তার মোট সম্পত্তি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৯২ টাকা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে