Views Bangladesh Logo

হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

হেপাটাইটিস ভাইরাস একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশে এর প্রাদুর্ভাব বেশ লক্ষণীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে প্রায় ১ কোটি মানুষ আক্রান্ত। বেসরকারি হিসাবে হেপাটাইটিসে প্রতি বছর দেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। হেপাটাইটিস নিয়ে উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে সংক্রমিত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে তার শরীরে এই ভাইরাস আছে।

২০০৮ সালের ২৮ জুলাই বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে হেপাটাইটিস দিবস পালনের উদ্যোগ নেয় ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স’। ২০১১ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৮ জুলাই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য গুরুত্ব দিয়ে পালিত হয়েছে গত রোববার (২৮ জুলাই)। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হেপাটাইটিসজনিত কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন, যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। হেপাটাইটিস লিভার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। তাই হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, হেপাটাটিস নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জানাশোনা ও সচেতনতা খুবই কম। হেপাটাইটিস সংক্রমণ বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে জন্ডিস রোগ হিসেবে পরিচিত। প্রকৃত অর্থে হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৫ ধরনের হেপাটাইটিস রয়েছে। হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ স্বল্পমেয়াদি লিভার রোগ। এটি বিশ্রাম নিলে এক পর্যায়ে সেরে ওঠে। তবে প্রাণঘাতী হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসের সংক্রমণ। এ ছাড়া এ রোগে আক্রান্তরা অনেকক্ষেত্রেই সুচিকিৎসা পান না। আর বাংলাদেশে হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের একটা বড় অংশ ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া, ডাব পড়া নেয়ার মতো কবিরাজি চিকিৎসার দ্বারস্থ হন।

হেপাটাইটিস যদিও একটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য অসুখ, এ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবেই অনেককে অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়। চিকিৎসকরা জানান, এটা নীরবে একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াচ্ছে। সেলুনে শেভ করতে গিয়ে ক্ষুর থেকে, সিরিঞ্জের মাধ্যমে ড্রাগস গ্রহণ, ট্যাটু করার মাধ্যমে, নাক-কান ফুটানো, রক্ত পরিসঞ্চালন, তারপর যৌন মিলনের মাধ্যমে সহজে ট্রান্সমিট হচ্ছে। খাদ্য ও পানিবাহিত কারণে এ ও ই ভাইরাস ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মা থেকে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাই হেপাটাইটিস ভাইরাসের ঝুঁকি প্রতিরোধে গর্ভাবস্থার শুরুতেই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পরীক্ষা করা উচিত। গর্ভাবস্থার ১২ সপ্তাহ পর মা এবং জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ দিলে মা ও সন্তান দুজনেরই ঝুঁকি কমে। ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, হেপাটাইটিস সংক্রমণের বিষয়ে মানুষকে সচেতনতা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিন্তু শিশুদের এই টিকা দেওয়া শুরু হয় দেড় মাস পর। এই দেড় মাস শিশুরা অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে। যেসব অন্তঃসত্ত্বা মায়ের হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থাকে, জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সে মায়ের নবজাতককে স্থায়ী ও তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য হেপাটাইটিস বি টিকার পাশাপাশি ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দিতে হবে। স্কুলস্বাস্থ্য কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে গিয়ে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও টিকা নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। গণমাধ্যমে এ সম্পর্কে আরও ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। আমাদের দাবি, সরকার যেন হেপাটাইটিস সম্পর্কে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ