মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন, ‘ওরে হুজুররা পিডায়া মারছে’
রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী মো. নাঈম শেখের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি ওয়াশরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাঈমের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওয়াশরুমে শাওয়ারের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে শিশুটি। তবে তার শরীরে বেতের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে নাঈমের পরিবারের অভিযোগ, তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং তারা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে নাঈম আত্মহত্যা করেছে।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে রায়েরবাগ জোড়াখাম্বা এলাকার মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি ওয়াশরুম থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন তাকে শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে শিশুটির শরীরে বেতের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে এসআই সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাঈম ওয়াশরুমে শাওয়ারের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু শরীরে বেতের দাগ থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পুলিশও নিশ্চিত হতে চায়। এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ভিড় করেন তার স্বজনেরা। স্ট্রেচারে শিশুটির মরদেহ পড়ে আছে, আর সেটিকে ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নাজমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা।
একজন স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, ‘ওরে হুজুররা পিডায়া মারছে।’
নাঈমের মা নাজমা বেগম সন্তানের শরীরের হাঁটুর নিচের আঘাতের দাগ দেখিয়ে ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তার দাবি, নাঈম আত্মহত্যা করার মতো কোনো পরিস্থিতিতে ছিল না।
নাজমা বেগম বলেন, ‘ফাঁসি দিলে এক জায়গায় দাগ থাকত, সারা শরীরে না। আমার সন্তান হত্যা করার বিচার চাই।’
নাঈমের মামা সুমনও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগের দিন মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাকে বেত দিয়ে মারধর করেছিলেন। তার ভাষ্য, ওই মারধরের বিষয়টি পরিবার জানতে পেরেছিল।
নাঈমের বাবা বাবু শেখ রিকশা চালান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছিল বড়। পরিবারে সে ছিল বাবা-মায়ের আদরের সন্তান।
সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। নাঈম কীভাবে মারা গেল, মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন কেন—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছেন স্বজনেরা।
নাঈমের পরিবারের দাবি, যদি তাকে মারধর করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই ঘটনারও তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আর যদি আত্মহত্যার দাবি সত্য হয়, তাহলেও একটি ১২ বছরের শিশু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল—তার উত্তরও খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
মতামত দিন