যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় আনবে, সতর্কবার্তা কাতারের
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানী দোহায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনাবৃদ্ধি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর জন্যও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ কারণেই কাতার যতটা সম্ভব উত্তেজনা এড়িয়ে চলার পক্ষে।'
এর আগে গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সে সময় ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় বোমাবর্ষণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। কাতারের ভূখণ্ডে এটি ছিল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
পরবর্তীতে সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে কাতার। বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যা দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। বিক্ষোভের মূল কারণ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। বছরের পর বছর অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই অবনতির কারণে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের জনগণের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ মঙ্গলবার তিনি ইরানি জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'শিগগিরই মার্কিন সহায়তা আসছে।'
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে ইরানের সেনাবাহিনী।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে