গ্রুপ বি
এশিয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে কাতার
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কাতার এশিয়া অঞ্চল থেকে সরাসরি বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি আত্মবিশ্বাসী দল। ২০২২-এর আয়োজক হিসেবে অভিজ্ঞ এই দলটি এবারও শক্তিশালী কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের মতো দলগুলোর সাথে গ্রুপ ‘বি’-তে প্রতিদ্বন্ধিতা করবে। দ্রুতগতি এবং এশীয় ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বিশ্বকাপে ভালো করার দাবিদার। প্রতিটি দেশের মতো কাতারও প্রস্তুতি নিচ্ছে নিজেদের শক্তি, কৌশল এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন এক অধ্যায় শুরু করার লক্ষ্যে। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৫৫তম অবস্থানে রয়েছে কাতার।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
কাতার ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। আয়োজক দেশ হিসেবে তারা সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কাতার সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা আয়োজক দেশ ছিল, কারণ তারা গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল এবং কোনো পয়েন্ট পায়নি। ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা তাদের টানা দ্বিতীয় এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। তারা ১৪ অক্টোবর ২০২৫-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পরাজিত করে যোগ্যতা নিশ্চিত করে।
শক্তিমত্তা
২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে কাতার ফুটবল দলের শক্তিমত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের ২০২২ সালের পারফরম্যান্স থেকে ভিন্ন। কাতার এশিয়ান বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে এবং ৪র্থ রাউন্ডে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিত করেছে তাদের জায়গা। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে কাতারের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগ ভারসাম্যপূর্ণ খেলা উপহার দিয়েছে। কাতার ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে এশিয়ান কাপ জিতেছে, যা প্রমাণ করে যে এশীয় ফুটবলে তারা অন্যতম শক্তিশালী দল।
দুর্বলতা
কাতার দলের প্রধান দুর্বলতা ছিল বিশ্বমঞ্চে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতার অভাব। দলের রক্ষণভাগ বেশ ভঙ্গুর ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে তারা দ্রুত গোল হজম করে, যা দলের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বিশ্বমানের দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা এবং উচ্চমানের মানসিক দৃঢ়তার অভাব রয়েছে, যা বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে গোল হজম করার অন্যতম কারণ।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের প্রধান তারকা আকরাম আফিফ, যিনি আল-সাদ ক্লাবের হয়ে খেলেন। ২০২৩ এশিয়ান কাপে গোল্ডেন বল বিজয়ী এবং দুইবার এএফসি বর্ষসেরা খেলোয়াড়। এছাড়া আলময়েজ আলী দলের অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকার, যিনি আল-দুহাইল ক্লাবে খেলন। এডমিলসন জুনিয়র আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় খেলেন। দলের প্রধান গোলরক্ষকদের একজন মেশাল বারশাম এবং মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ আল হাসান।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ ও সম্ভাবনা
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে কাতার গ্রুপ বি-তে স্থান পেয়েছে। এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে কাতার এই আসরে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে। গ্রুপ বি-তে কাতার তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলের মুখোমুখি হবে। দলগুলো হলো: অন্যতম স্বাগতিক কানাডা, ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের আরেকটি দল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সরাসরি খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তাদের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কাতারকে তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে, বিশেষ করে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে কাতারের জেতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বা নামমাত্র, যা বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বাজি ধরার সাইটগুলোর পূর্বাভাসে ফুটে উঠেছে। কাতারকে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ‘ম্যাসিভ আউটসাইডার’ বা অত্যন্ত দুর্বল দল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ২০২২ সালে নিজ দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপে কাতার একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। যদিও ২০২৬ সালে তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা তাদের কাছ থেকে কোনো বড় চমক আশা করছেন না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে