ট্রাম্পবিরোধী সুরে একজোট শি ও পুতিন, চুক্তি ২০টির বেশি
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং ওয়াশিংটনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পারমাণবিক নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর বুধবার পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে এই নিন্দা-সমালোচনায় সরব হলেন দুই নেতা।
দুই নেতার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে চীন স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে, যেখানে চীনের অবস্থান রাশিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ এক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভূমি ও মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত সীমিত রাখার চুক্তির মেয়াদ নবায়নে ওয়াশিংটনের অনাগ্রহেরও সমালোচনা করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। মস্কো মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তাতে সাড়া দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা মোকাবেলায় নিজেদের মজুত আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। যদিও চীন বলেছে, তাদের অস্ত্র বৃদ্ধির হার যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে ২০টির বেশি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ‘বহুমেরুভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন দুই নেতা।
তবে বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে এক সুরে কথা বললেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে যে গ্যাস চুক্তির প্রত্যাশায় ছিল, তা অধরাই থেকে গেছে। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে চীনে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি করার পরিকল্পনা এবারও চূড়ান্ত হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক সহযোগী জানিয়েছেন, দুই দেশ ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তবে কূটনৈতিক দিক থেকে এই সপ্তাহটি শি জিনপিংয়ের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার রাশিয়া— উভয় দেশের নেতার সঙ্গেই বৈঠক করেছেন তিনি। ট্রাম্প যখন ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন এবং পুতিনের বাহিনী ইউক্রেন যুদ্ধে আটকে, ঠিক তখন এই দুই নেতাকে একই সপ্তাহে আতিথেয়তা দিয়ে বেইজিং নিজেকে বিশ্বে স্থিতিশীলতার স্তম্ভ ও অপরিহার্য কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে