পাম্পের নিরাপত্তা ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিতসহ ৮ দফা দাবি
দেশের সব ফিলিং স্টেশননে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স ও এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, পাম্প মালিক ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান দাবি হলো- ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ বজায় রাখা। এর পাশাপাশি তারা আরও ৭টি দাবি তুলে ধরেন। দ্বিতীয়ত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়ানো এবং ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়। তৃতীয়ত, ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় হঠাৎ ভিড় করে তেল নেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়, কারণ এতে বিশৃঙ্খলা বাড়ে। চতুর্থ দাবি হিসেবে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়—সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পঞ্চমত, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সব পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। ষষ্ঠ দাবি অনুযায়ী, ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরিতে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিটি চেম্বারের নির্ধারিত ধারণক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল দিতে হবে। অন্যথায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। সপ্তমত, সরকারকে তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রমে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। অষ্টম এবং সর্বশেষ দাবি হিসেবে বলা হয়, অযথা পেট্রোল পাম্পে হামলা বা মালিকদের ওপর একতরফা দোষ চাপানো বন্ধ করতে হবে।
এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত এসব দাবি বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে