ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৭০০
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সাত শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার জন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই জন্তর মন্তর এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করেছিল। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, অবস্থান ও পিকেটিং নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি স্লোগান দেওয়া ও প্রকাশ্যে বক্তৃতার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন। শুক্রবারের কর্মসূচিতে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার সদস্যরাও অংশ নেন।
পুলিশের ভাষ্য, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে প্রায় ৭০০ স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সদস্য জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে অশোকা রোডের একটি মোড়ে তাদের আটকে দেওয়া হয়। পরে তাদের অনেককে আটক করা হয়।
এদিকে আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংকেও নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দেয় পুলিশ। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও অতিশীও আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে সেখানে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ফিরোজ শাহ রোডে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
লাউডস্পিকারে বারবার বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরের দিকে না যাওয়ার আহ্বান জানায় পুলিশ। সেখানে কোনো ধরনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয়। পুলিশের দাবি, অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতেই বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কারণে মধ্য দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়।
মতামত দিন