Views Bangladesh Logo

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বরখাস্ত ও হয়রানি বন্ধে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল গঠন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ।


আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি, পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের কো-কনভেনার ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় আমরা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত’।


বিবৃতিতে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষকদের বিরূদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও শাস্তিমূলক ব‍্যবস্থা গ্রহণ করতঃ শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা থেকে বিরত থাকার জন‍্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে নানাবিধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে। এর বিস্তার শিক্ষাঙ্গন তথা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত হওয়ার কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি দূরের কথা, মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মিথ্যা অজুহাতে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিরোধী মতকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।


প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাই স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মাধ্যমে মব সৃষ্টিকে উৎসাহিত করে শিক্ষকদের শারীরিকভাবে আঘাত বা মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষকদের চাকুরীচ্যুত, পদাবনতি করা হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে তা আত্মহত্যার প্ররোচনা পর্যন্ত যুগিয়েছে। ২০২৪-এর ৫ আগষ্টের পর শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপকভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, যার পিছনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বলে অনেকেই মনে করেন।


২০২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঘটিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে, সরকার দেশে স্থিতিশীলতার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করবে, শিক্ষাঙ্গনে সরকারের বিরোধী মনোভাবাপন্ন শিক্ষকদের বিরূদ্ধে নানাবিধ অজুহাত দাঁড় করিয়ে শিক্ষাঙ্গনে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করতে প্রশাসনকে নিবৃত্ত করবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জনগণের মধ্যে এসব বিষয়ে ব্যাপক হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র, অভিজ্ঞ, স্বনামধন্য অধ্যাপকদের চাকুরীচ্যুত করার লক্ষ্যে নানাবিধ অজুহাত সৃষ্টি করে তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষকদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করেছে। এই ধরণের বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রকারান্তরে শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী মুক্তচিন্তা, রাজনৈতিক মতচর্চা, স্বাধীন মনোভাব নিয়ে চলাফেরা করার অধিকার রাখেন শিক্ষকরা।


তাদের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হরণ করার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলে তা পরবর্তীতে প্রয়োগের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়, যা সমাজে বিরাজমান বিভক্তিকে আরো বিষিয়ে তুলতে পারে। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অভিজ্ঞ সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপিকা ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আজমল হোসেন ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এরপূর্বে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডাঃ আহসান হাবীব হেলাল, অধ‍্যাপক ডাঃ সুবাস দে সহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ শিক্ষক - চিকিৎসকসহ ৩৬ জনকে অন্যায়ভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম সহ অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে মনগড়া অভিযোগে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের বিরূদ্ধে বানোয়াট অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সমস্ত তদন্ত কমিটির নিয়মনীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড কমিটির নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।আরো অনেক শিক্ষককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাকুরীচ্যুত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও কৃষিবিদ সহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের বিরূদ্ধে এ সমস্ত নিবর্তনমূলক কর্মকান্ডকে চরম অমানবিক হিসেবে দেখছে। এ সমস্ত ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন‍্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ