Views Bangladesh Logo

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে তিনি নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সূত্রটির দাবি, কোনো রাজনৈতিক চাপ নয়, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এর আগে থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। ওই সময় পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ইসলামী ব্যাংকের একটি শীর্ষ পদে ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাকে অপসারণের দাবি জানালেও সাংবিধানিক কারণ দেখিয়ে তখন অন্তর্বর্তী সরকার সে পথে এগোয়নি।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে অপমানিত মনে হওয়ার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে যেতে চান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা আবারও সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ