জাপানে ভূমিকম্পে বিপণিবিতান ধস, বহু মানুষ আটকা
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো অঞ্চলে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে জাপানের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কুমামোতোর একটি ‘ইয়ন’ বিপণিবিতানে। তীব্র কম্পনের পর ভবনটিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কয়েকজন আটকা রয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যাও বাড়তে পারে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনের ধ্বংসস্তূপ ও ভেঙে পড়া কাচের আঘাতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অন্তত ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন মানুষের জীবন রক্ষা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী পরাঘাত (আফটারশক) হতে পারে।
ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া দপ্তর কুমামোতো, নাগাসাকিসহ উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ না পাওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে ভূমিকম্পে কিউশু দ্বীপের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় জাপানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে। তবে এবারের ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেশটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মতামত দিন