জাপানে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকালে হনশু দ্বীপের ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন উপকেন্দ্র থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ নির্ধারণ করলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ বলে জানায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৪ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। তবে ঘটনার পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিভিন্ন ঘরবাড়ির আসবাবপত্র এলোমেলো হয়ে গেছে, রান্নাঘরের ক্যাবিনেটের দরজা খুলে গেছে এবং বেশ কিছু দোকানের তাক থেকে পণ্যসামগ্রী নিচে পড়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে লিফটের ভেতরে মানুষের আটকে পড়া, ভবনের দরজা লক হয়ে যাওয়া এবং একটি ট্যাংকার ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আক্রান্ত এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলোতে একাধিক জরুরি কল এলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের বড় ভূমিকম্পগুলোর তুলনায় এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশ সীমিত।
এদিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিনকানসেন দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্কের কিছু অংশের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয়। ট্র্যাকগুলো নিরাপদ নিশ্চিত করার পর ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
উল্লেখ্য, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি বছর অসংখ্য ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে কঠোর ভবন নির্মাণ বিধিমালা এবং পূর্ব দুর্যোগ প্রস্তুতির কারণে দেশটিতে এই ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সাধারণত কম হয়ে থাকে।
মতামত দিন