গ্রুপ-কে
তারকায় ভরা পর্তুগাল: শিরোপারই একমাত্র লক্ষ্য
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ও তারকাসমৃদ্ধ দল পর্তুগাল আবারও বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে। প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবল, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং উচ্চমানের টেকনিক্যাল দক্ষতার জন্য দলটি বিশ্ব ফুটবলে বিশেষভাবে পরিচিত। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচের মধ্যেই অবস্থান করছে পর্তুগাল, যা তাদের ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রতিফলন। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার দুর্দান্ত মিশেলে গড়া দলটি এবারও অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
পর্তুগাল এখন পর্যন্ত বহুবার ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ১৯৬৬ সালে ইউসেবিওর নেতৃত্বে তারা প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে বড় সাফল্য অর্জন করে তৃতীয় স্থান লাভ করে। পরবর্তীতে ২০০৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে আবারও শক্ত অবস্থান জানায় দলটি। আধুনিক যুগে নিয়মিতভাবে নকআউট পর্বে খেললেও এখনও বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নতি পর্তুগালকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শক্তিমত্তা
পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগের গভীরতা ও টেকনিক্যাল দক্ষতা। দ্রুত পাসিং, উইং-ভিত্তিক আক্রমণ এবং বল নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা দলটিকে আলাদা করে। মাঝমাঠে তারা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী। ডিফেন্সেও অভিজ্ঞ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলোয়াড় রয়েছে, যারা চাপের মুহূর্তে স্থির থাকতে পারে। এছাড়া বেঞ্চের গভীরতা ও বিকল্প খেলোয়াড়দের মানও দলটির বড় শক্তি।
দুর্বলতা
পর্তুগালের অনেক দুর্বলতাও রয়েছে। বড় ম্যাচে মাঝে মাঝে রক্ষণভাগে অসতর্কতা দেখা যায়। আক্রমণ নির্ভরতা বেশি হয়ে গেলে রক্ষণে চাপ তৈরি হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামান্য ভুল ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। কখনো কখনো টেকনিক্যাল দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচে তারা বল হারানোর সমস্যায় পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, যিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলেন। তার অভিজ্ঞতা, গোল করার দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণ এখনো দলের জন্য অনুপ্রেরণা। আক্রমণে তরুণ তারকা রাফায়েল লিয়াও ইতালির ক্লাব এসি মিলানের হয়ে খেলেন এবং গতি ও ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেজ ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলে দলের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ডিফেন্সে রুবেন দিয়াস ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন। পর্তু গালেরও রক্ষণের ভরসা তিনি। গোলপোস্টে দিওগো কস্তা পর্তুগালের নির্ভরতার প্রতীক।
প্রতিপক্ষ
গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। এই গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী আক্রমণভাগ ও শারীরিক ফুটবল পর্তুগালের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তারা ফেভারিট হলেও তাদের দ্রুতগতির ও সংগঠিত ফুটবল সামলাতে হবে, যেখানে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর বিপক্ষেও পর্তুগাল পরিস্কার ফেভারিট। তবে আফ্রিকান দলটির গতি ও কাউন্টার অ্যাটাক মোকাবিলা করতে হবে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
পর্তুগাল এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল। তাদের তারকাবহুল স্কোয়াড, অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগের শক্তি যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। যদি তারা রক্ষণে স্থিরতা বজায় রাখতে পারে এবং বড় ম্যাচে কার্যকারিতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যাবে পর্তুগীজরা।
মতামত দিন