Views Bangladesh Logo

অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভোট স্থগিত করা হবে: সিইসি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নির্বাচন কমিশন সারাদেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) ইসি ভবনে ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ মন্তব্য করেন। এসময় সিইসি বলেন, "এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা ছাড়া আমার কোনো উপায় থাকবে না। পরবর্তীতে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।"
প্রিজাইডিং অফিসারদের এ ধরনের ক্ষেত্রে অবিলম্বে কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
কর্মশালা চলাকালীন, সিইসি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করার পাশাপাশি বলেন, “তারা যে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের জন্য তাদের দরজা খোলা রেখেছেন।”
এদিকে এক মাসের মধ্যে এ ধরনের দ্বিতীয় কর্মশালার আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।
সাম্প্রতিক জনপ্রতিনিধিত্ব (আরপিও) সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, “আমরা যে উল্লেখযোগ্য বিধান প্রবর্তন করেছি তা প্রিজাইডিং অফিসারদের নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদি ইসির হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় তবে প্রিজাইডিং অফিসারই সে দায়িত্ব পালন করবেন।”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি মূল সংশোধনীর মাধ্যমে 'জনপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) বিল, ২০২৩ ' এ নির্বাচন কমিশনকে ভোটের ফলাফল স্থগিত বা বাতিল করার বা এক বা একাধিক ভোটকেন্দ্রের ভোট স্থগিত করার ক্ষমতা দিয়ে পাস করা হয়।
কর্মশালা শেষ করতে গিয়ে সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রিজাইডিং অফিসারদের কঠোরভাবে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। যদি অনিয়ম দেখা দেয়, প্রিসাইডিং অফিসারকে অবিলম্বে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট উভয়কে জানাতে হবে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট সহায়তা দেবে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রিসাইডিং অফিসারকে স্টেশনে ভোট দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
সিইসি আরও বলেন, "আমরা এমন একটি নির্বাচনের পক্ষে কথা বলি যা সব ধরনের অযৌক্তিক প্রভাব থেকে মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক নীতিকে সমুন্নত রাখে। ফলে ভোটারদের অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।"
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সিইসি বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন,"আমরা আমন্ত্রণ অব্যাহত রাখব -- আসুন, সমস্যাগুলো সমাধান করুন।”
তবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও তারা তা করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশিদা সুলতানাও কর্মশালায় সিইসিকে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”
এসময় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান বলেন, “আমরা যেটা আশা করছি তা হল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।”

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ