Views Bangladesh Logo

ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইছে পুলিশ

রাজধানী ঢাকায় কর্মরত একাধিক সাংবাদিককে ফোন করে ও বাসায় গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি লিংক ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইছে পুলিশ।

পুলিশের বিশেষ শাখা (সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ-সিএসবি) থেকে চিঠি পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের ফোন করে এমন তথ্য চাওয়া হচ্ছে মাঠ পুলিশের পক্ষ থেকে।

পুলিশের ঢাকা মহানগর শাখার পূর্ব বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান গত ১৮ মে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করেন বলে জানা যায়।

ওই চিঠি মতিঝিল, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, পল্টন ও সবুজবাগসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার জোন ইনচার্জদের কাছে পাঠানো হয় বলে জানায় পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

চিঠিতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা, সাংবাদিকতার বাইরে অন্য পেশায় যুক্ত আছেন কি না, পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

সিটিএসবিতে কর্মরত পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ফোন পাওয়া একাধিক সাংবাদিক এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে মুঠোফোনেই হুমকি, আক্রমণাত্মক সুরে কথা বলছেন তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়া সিটিএসবির মাঠ সদস্যরা।

সাংবাদিকরা বলছেন, রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা একজন সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইতে পারে না। এটি শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থি নয়, বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। পুলিশ সদস্য পরিচয়ে প্রশ্ন করা, তথ্য চাওয়ার ধরনও অপেশাদার, হুমকিস্বরূপ।

সিটিএসবির ফোন কল পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে মিরর এশিয়ার হেড অফ নিউজ আসিফ শওকত কল্লোল গণমাধ্যমকে বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য তো সংশ্লিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ে আছে। তথ্য মন্ত্রণালয় চাইলে হাউজে বা সাংবাদিক সংগঠনের সহায়তা নিতে পারে। সেটা না করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এটা করছে? এটাকে ভালোভাবে নেওয়া সুযোগ নেই।

জানা যায়, একটি ইংরেজি দৈনিকের তিনজনকে ফোন করে একইভাবে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, আমাকেও ফোন করা হয়েছিল। আমি ব্যস্ততার কারণে সাক্ষাৎ করিনি। তবে গতকাল ও আজ শুনছি আমার অনেক সহকর্মীকে ফোন করে রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডির কপিসহ নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এটা কেন করা হচ্ছে? এটা সরকার জানে কি না? জানলে কি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তা কিন্তু স্পষ্ট নয়। আমরা ডিআরইউর পক্ষে জানার চেষ্টা করছি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, এটা তো ভালোভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা নিয়ে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে পরিপত্র জারি করবে, অফিসে ফরম দেবে। সেটা পূরণ করার বিষয়। কিন্তু বিশেষ সংস্থা থেকে সাংবাদিকদের ফোন করা, বাসায় গিয়ে ইন্টারভিউ, তথ্য নেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিএসবির একজন কর্মকর্তা ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ভিভিআইপিদের অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ বা প্রচার, কাভারেজে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের সম্পর্কে এমন তথ্য সংগ্রহ, তথ্য হাল নাগাদের জন্য সাধারণ নির্দেশনা দিয়ে থাকে পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এজন্য সাংবাদিকদের ফোন করে তথ্য চাওয়ার নজির নেই।

তিনি আরও বলেন, এমনটি হওয়ার কথা না। তবুও খোঁজ নিচ্ছি। যদি কেউ এমনটি করে থাকেন সেক্ষেত্রে তিনি সম্ভবত নির্দেশনা বুঝতে ভুল করেছেন। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ