দায়িত্বরত সাংবাদিকের মোবাইল 'কেড়ে নিলেন' এডিসি জাহিদুল, ১০ ঘন্টায়ও ফেরত নেই
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহবুব ইসলামের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জাহিদুল ইসলাম। যার দৃশ্যমান ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে জনসমক্ষে এসেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার সময় এডিসি জাহিদুল ইসলাম সরাসরি সাংবাদিকের দিকে এগিয়ে যান এবং জোরপূর্বক তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন সেই সাংবাদিক।
সাংবাদিক মাহবুব নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেও এবং ফোনটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও ওই কর্মকর্তা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঘটনার ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও মোবাইল ফোনটি ফেরত না পাওয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত নিরাপত্তার ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন সাংবাদিকরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহবুব ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, মোবাইল ফোনটিতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংক্রান্ত নথিপত্র, বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্য এবং ব্যক্তিগত অনেক তথ্য সংরক্ষিত ছিল, যা হারিয়ে ফেলায় তিনি পেশাগতভাবে অসুবিধায় পড়েছেন।
একই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে থাকা ঢাকা পোস্টের রিপোর্টার মারুফ হোসেনও একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হন, যেখানে এডিসি জাহিদুল ইসলাম তাকে ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার জন্য উদ্ধত আচরণ করেন।
মারুফ হোসেন প্রতিবাদ করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ‘মাথা গরম’ থাকার অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন অসহযোগিতামূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ অধস্তনদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলতে পারে।
ঘটনার পরপরই মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এডিসি জাহিদুল ইসলাম বারবার গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রথমদিকে ফোনটি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি প্রয়োজনে নতুন ফোন কিনে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
তবে, মিডিয়ার সামনে এডিসি জাহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ফুটেজ দেখালে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মতামত দিন