আইনের মধ্যে পুলিশের হত্যা করার অধিকার আছে, তবে সরকার তা চায় না: তথ্য উপদেষ্টা
পরিস্থিতি তৈরি হলে আইন অনুযায়ী পুলিশের প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ অতীতের সরকারের মতো অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করুক, বর্তমান সরকার তা চায় না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে সরকার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার কথা বলছে। আন্দোলনকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের মতো—এমন বক্তব্যও এসেছে। তাহলে সরকার কেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না?
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি আগে একদিন বলেছিলাম, বাংলাদেশের পুলিশ কখনো শেখ হাসিনার পুলিশের মতো আর হবে না, আমরা এটা প্রত্যাশা... আমি নাগরিক হিসেবে বলছি, আমি সরকারে থাকা মানুষ হিসেবে বলছি না।
পুলিশের বল প্রয়োগের কিছু ঘটনায় অসামঞ্জস্যের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এর মধ্যেও সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনারা হয়তো দেখেছেন, কোথাও কোথাও ডিসপ্রপোরশনেট বল প্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমি সরকারে থেকেই কথাটা বলছি।
পুলিশের আইনি ক্ষমতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের বল প্রয়োগ করার আইনি অধিকার আছে। পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, আইনি অধিকারের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু যে কথাটা বারবার বলছি, সেটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং প্রপোরশনেট বল প্রয়োগ। তো আমরা চেয়েছি যে আগে যেভাবে এগুলো দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে, এই সরকার সেটা ওভাবে চাইছে না।
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনকারীরা এ দেশের নাগরিক। গোয়েন্দা তথ্য ও আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সরকার এমনভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যাতে জনগণের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি কম হয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে শ্রমিক বিক্ষোভের অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শুরুতে প্রকৃত শ্রমিকেরাও তাঁদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। এখন এ বিষয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকেরা মাঠে না থাকলে অন্যদের পক্ষে আন্দোলনের নামে একই পরিস্থিতি তৈরি করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতামত দিন