Views Bangladesh Logo

৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন। সফরের প্রথম ধাপে তিনি রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এরপর ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুনের এই সফরের বিস্তারিত খসড়া সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

রোববার, ২১ জুন: মালয়েশিয়ায় আগমন
দুপুর ০২:৪৫ – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি৩৮৬) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে প্রস্থান।
রাত ০৮:৪৫ – কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন মালয়েশিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী সিনেটর ড. জুলকিফলি হাসান। বিমানবন্দরে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
রাত ০৯:৫০ – সফরকালীন বাসস্থান কুয়ালালামপুরের শাংরি লা হোটেলে পৌঁছাবেন।

সোমবার, ২২ জুন : দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও বাণিজ্যিক সাক্ষাৎ
সকাল ০৮:২০ – হোটেল থেকে পুত্রাজায়ার ‘পেরদানা পুত্রা’-র উদ্দেশ্যে প্রস্থান।
সকাল ০৯:০০ – ০৯:৩০ – পেরদানা স্কয়ারে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং পুনরায় গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মূল ভবনে প্রবেশ করে ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করবেন।
সকাল ০৯:৩০ – ০৯:৪৫ – দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত (সীমিত) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ০৯:৪৫ – ১০:৩০ – দুই দেশের প্রতিনিধিদল পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
সকাল ১০:৩০ – ১০:৪০ – দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি বিনিময় প্রত্যক্ষকরণ। সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত ৩টি সমঝোতা স্মারক ও ১টি নোট বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল ১০:৪০ – ১১:০০ – দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন (কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে না)।
সকাল ১১:১৫ – দুপুর ১২:১৫ – মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তার সরকারি বাসভন ‘সেরি পেরদানা কমপ্লেক্স’-এ মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ ও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ।
দুপুর ১২:১৫ – মালয়েশিয়ার রাজা মহামান্য সুলতান ইব্রাহিম ইবনি আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
দুপুর ০১:০০ – ০১:৪৫ – হোটেল শাংরি লা-তে এমএমসি পোর্টস, এয়ার এশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানদের সাথে পর্যায়ক্রমে সৌজন্য সাক্ষাৎ।

সোমবার, ২২ জুন :  চীনের ডালিয়ানে আগমন
বিকেল ০৩:০০ – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি১৬০১) কুয়ালালামপুর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী।
রাত ০৯:০০ – চীনের ডালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে স্টেট ভাইস-গভর্নর এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অভ্যর্থনা জানাবেন।
রাত ০৯:৫০ – বিমানবন্দর থেকে ডালিয়ানের হোটেল ‘শাংরি লা’-তে পৌঁছাবেন এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করবেন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন : ডব্লিউইএফ-এর সিইও ও বিশ্বনেতাদের সাথে সাক্ষাৎ
সকাল ১০:০০ – ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট এবং সিইও মিস্টার আলোইস জুইংগি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিকেল ০৫:০০ - সন্ধ্যা ০৬:০০ – ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পটভূমিতে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রথম বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন।
সন্ধ্যা ০৬:৩০ – চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার কর্তৃক আয়োজিত স্বাগত সংর্বধনায় যোগদান। এছাড়া এদিন গিনি, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কাজাখস্তানের সরকার প্রধানদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।

বুধবার, ২৪ জুন : সামার ডাভোস ও বেইজিং যাত্রা

সকাল ১০:০০ - ১০:৪৫ – ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (সামার ডাভোস) নতুন চ্যাম্পিয়নদের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ।
সকাল ১১:১০ - বেলা ১২:০০ – চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানদের সাথে বৈঠক।
দুপুর ০১:৫৮ – হাই-স্পিড ট্রেনের মাধ্যমে ডালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
বিকেল ৫:৩৬ মিনিটে বেইজিং চাওমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবেন।
সন্ধ্যা ০৬:২৫ – বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’-তে আগমন।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন: বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ও শীর্ষ বৈঠক
সকাল (সম্ভাবনা) – চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান,পানিসম্পদ মন্ত্রী, সিআইডিসিএ-এর চেয়ারম্যান এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক।
সকাল ১১:০০ - দুপুর ১২:০০ – ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশগ্রহণ এবং চেরি গ্রুপ, হ্যান্ডা গ্রুপ ও চায়নাটেক্স কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ।
বিকেল ০৫:০০ - ০৫:৪৫ – গ্রেট হল অব পিপল-এ চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর সাথে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
বিকেল ০৫:৪৫ – দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীতে প্রিমিয়ার লি ছিয়াং কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ।

শুক্রবার, ২৬ জুন: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক ও ঢাকা প্রত্যাবর্তন
সকাল ০৯:৩০ - ১০:০০ – ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সাক্ষাৎ।
সকাল ১০:৩০ - ১১:১০ – চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে গ্রেট হল অব পিপল-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল ১১:৪০ - বেলা ১২:১০ – মিউজিয়াম অব দ্য সিপিসি পরিদর্শন।
বিকেল ০৫:০০ – বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন-এর (ফ্লাইট নম্বর: সিজেট০০৯) বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রস্থান।
রাত ০৮:১৫ – ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাধ্যমে এই দুই দেশ সফর সমাপ্ত হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ