Views Bangladesh Logo

যুক্তরাষ্ট্রে স্কাইডাইভিং অভিযানে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ নিহত ১২

রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ভরা একটি স্কাইডাইভিং অভিযান মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হলো ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে স্কাইডাইভার বহনকারী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন স্কাইডাইভার এবং বিমানের চালক।

রোববার (১৪ জুন) সকালে বেটস কাউন্টির একটি স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। স্কাইডাইভিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিমানটি ভাড়া নিয়েছিল। নির্ধারিত উচ্চতায় পৌঁছে যাত্রীদের আকাশে লাফ দেওয়ার কথা থাকলেও সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানে যান্ত্রিক বা কারিগরি জটিলতার লক্ষণ দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি স্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠতে পারছিল না এবং একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাঁ দিকে হেলে যায়। এরপর বিমানবন্দর থেকে অল্প দূরে একটি খোলা এলাকায় সেটি আছড়ে পড়ে। বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং চারদিকে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিমানে থাকা কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিল না; এটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত একটি ছোট বিমান, যা স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি-৭৫০ মডেলের। বিমানটি উড্ডয়নের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়। কী কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ওই আকাশসীমায় বাধ্যতামূলক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবা চালু ছিল না। ফলে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের নিয়মিত যোগাযোগও ছিল না। তবে এটি দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো স্কাইডাইভার বিমান থেকে লাফ দিতে পেরেছিলেন কি না, সেটিও যাচাই করা হয়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানে থাকা সবাই দুর্ঘটনার সময় ভেতরেই ছিলেন এবং প্রাণ হারান। ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি হলো, নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থান করছিলেন। তারা নিজেদের চোখের সামনেই বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে বিধ্বস্ত হতে দেখেন। এ দৃশ্য স্থানীয়দেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ