Views Bangladesh Logo

‘নোংরা রাজনীতিবিদদের রাজনীতিতে ফেরাতে চায় না মানুষ’

Akbar  Hossen

আকবর হোসেন

দেশের রাজনীতিতে নোংরা রাজনীতিবিদদের পুনরাগমন চায় না মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণও নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপি উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কোনো অপরাধী বা অনৈতিক ব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হোক—এটা চায় না দলটি।

তিনি বলেন, আমরা চাই সংবিধান ও দেশের আইন মেনে একটি সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক। জনগণের সমর্থন নিয়েই বিএনপি রাজনীতি করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ড. মো. কেরামত আলী বলেন, জাতীয় পার্টি অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম সহযোগী ছিল। তাদের রাজনীতির সুযোগ দিলে দেশের রাজনীতি আবারও নোংরা হয়ে পড়বে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী বলেন, এনসিপিসহ দেশের অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ফেরার বিরোধিতা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের আসন দখলের চেষ্টা করতে পারে, যা পরবর্তীতে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে।

রাজশাহী মহানগরের ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গণহত্যাকারী, জুলুমকারী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকারী ও তাদের সহযোগীদের কোনোভাবেই রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম চলাকালে রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেনের উপস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা প্রতিবাদ জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করছি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না।

প্রতীক বরাদ্দে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচনী প্রচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই এমন ঘটনা ঘটায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও রাজশাহী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে প্রার্থীদের প্রতি উদ্ধত আচরণ লক্ষ করা গেছে। তবে জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

এবার রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ জন দলীয় এবং ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী রাজশাহী-৩, ৪ ও ৬ আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে তারা প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ