Views Bangladesh Logo

ট্রাম্পের শান্তির বার্তার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা বাড়ানোর পরিকল্পনা পেন্টাগনের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে একই সময়ে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদারের উদ্যোগ নিচ্ছে পেন্টাগন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে আরও শক্তিশালী সামরিক বিকল্প দেওয়ার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে পেন্টাগন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সেনাদের পাশাপাশি আধুনিক সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকও থাকবে। এতে করে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৫ হাজার সেনা এবং আরও প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার প্রস্তাবের পাশাপাশি সেনা বৃদ্ধি মূলত ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল, যাতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে বাধ্য হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র শুধু আকাশপথে হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, প্রয়োজনে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দিলে তা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করে দুই পথই খোলা রাখছে—যা ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ