টেলিটকের সিমে রবি নেটওয়ার্ক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের অপেক্ষা
টেলিটকের গ্রাহকরা যেন রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে আবার রবির গ্রাহকরা টেলিটকের-পরীক্ষামূলক এমন উদ্যোগে অনুমতি দিতে টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদন চাইছে বিটিআরসি।
বিষয়টি এমন, কোথাও টেলিটকের নেটওয়ার্ক নেই কিংবা তা দুর্বল তখন ওই এলাকায় রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কথা বলাসহ সব ধরনের মোবাইল সেবা পাবেন টেলিটক গ্রাহকরা। আবার এই একই সুবিধা মিলবে রবির গ্রাহকের ক্ষেত্রেও। তারা ব্যবহার করতে পারবেন টেলিটকের নেটওয়ার্ক।
‘ন্যাশনাল রোমিং‘ নামে এই সেবা চালুতে বিটিআরসিতে রবির আবেদনের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, নেটওয়ার্ক শেয়ারিং যেকোনো দেশেরই টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য ভাল বিষয়। ‘ন্যাশনাল রোমিং’ নিয়ে প্রথম ২০১৫ সালে আমরাই কাজ করতে চেয়েছিলাম। যদিও তখন এটি সফল হয়নি।
‘এটা সফল করতে ইকোসিস্টেমে পরিবর্তন দরকার। ‘ন্যাশনাল রোমিং’ প্রক্রিয়ায় যে সমস্যা গুলো রয়েছে সেগুলো সমাধানে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে’ উল্লেখ করেন তিনি।
সাহেদ আলম বলেন, রবির নেটওয়ার্ক পেলে নি:সন্দেহে টেলিটকের গ্রাহকরা উপকৃত হবে।
রবি মাস দু’য়েক আগে এই ন্যাশনাল রোমিং নিয়ে বিটিআরসির কাছে বিস্তারিত তুলে ধরে। তারা শেখানে ন্যাশনাল রোমিংয়ের বিভিন্ন শেয়ারিং পদ্ধতি, মোডালিটি, কানেক্টিভিটি টপোলজিসহ রোমিংয়ের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জগুলো দেখায়।রবি জানায়, অপারেটরদের মধ্যে রেডিও কোর সিগন্যালিংয়ে দুটি নেটওয়ার্কে মাল্টিভেন্ডর ইন্ট্রিগ্রেশন বড় চ্যালেঞ্জ। আছে আইপি কনফ্লিক্ট ইস্যু। সবমিলে এর জন্য ইকোসিস্টেম তৈরি করার রয়েছে। কোম্পানিটি ছয়মাস এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালোনোর কথা বলেছে।২০২৩ সালে টেলিটকের নেটওয়ার্ক নিয়ে বাংলালিংক এমন আবেদন করেছিল।
বিটিআরসির অনুমতি নিয়ে ইতোমধ্যে তারা বিষয়টি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে দেখেছে। বিটিআরসি বলছে, ন্যাশনাল রোমিং আন্তর্জাতিক রোমিং সেবার মতোই একটি বিষয়। এতে একটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা দেশের কোনো এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক না পেলে কিংবা নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে আরেকটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সব রকম মোবাইল যোগাযোগ সেবা নেবেন। বর্তমানে রবির গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার আর টেলিটকের ৬৪ লাখ ৬০ হাজার।
যেভাবে এই নেটওয়ার্ক শেয়ারিং
হোম নেটওয়ার্ক (গ্রাহকের সিম যে অপারেটরের) না থাকলে ডমিস্টিক বা ন্যাশনাল রোমিংয়ের মাধ্যমে ওই নেটওয়ার্কের বাইরে ভিজিটিং নেটওয়ার্ক (গ্রাহক বিকল্প হিসেবে যে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে) ব্যবহার করে সংযুক্ত থাকবে গ্রাহক। এজন্য ভিজিটিং নেটওয়ার্কের ফ্রিকোয়েন্সি, এন্টেনা, র্যান, কোর সুইচিং নোডসসহ নেটওয়ার্কের মূল অবকাঠামো ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে গ্রাহক নিজের সিমে নেটওয়ার্ক না থাকার পর আরেকটি অপারেটরের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে কথা বা মোবাইল সেবা নিতে পারবেন।
নীতিগত যা কিছু
ইনফ্রাস্টাকচার শেয়ারিং গাইড লাইন-২০১১ এর ২.১ অনুযায়ী র্যান এবং কোর সুইচ শেয়ার অ্যাক্টিভ ইনফ্রাস্টাকচার শেয়ার। ন্যাশনাল রোমিংয়ে দেখা যাচ্ছে অ্যাক্টিভ ইনফ্রাস্টাকচার শেয়ার হচ্ছে। গাইডলাইনের ৩.১ অনুযায়ী অপারেটরগুলো শুধু প্যাসিভ ইনফ্রাস্টাকচার শেয়ার করতে পারবে। বিটিআরসি বলছে, অ্যাক্টিভ ইনফ্রাস্টাকচার শেয়ারিংয়ের গাইডলাইনের খসড়া সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সেখানে এই অ্যাক্টিভ ইনফ্রাস্টাকচার শেয়ারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে