যাত্রীবাহী ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে, আয় কি বাড়বে?
বহু বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে কেবল লোকসানের খাতাই ভারী করে যাচ্ছে। গত আড়াই দশকে সংস্থাটি লাভের মুখ দেখেনি। ১৯৯৮-৯৯ সালে অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে শেষবার লাভে ছিল। ওই ওই বছর সংস্থাটির নিট লাভ ছিল ১৮ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা। তারপর বছর বছর সংস্থাটি কেবল লোকসানই গুনেছে। প্রতি বছর লোকসান ছাড়িয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। গত এক যুগের বেশি সময়ে লোকসান ছাড়িয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে গত শনিবার (১৬ মার্চ) খবরে প্রকাশ, রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়ে গেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এপ্রিল মাস থেকেই তা কার্যকর হতে পারে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতর। ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে মানুষ যখন বাড়ি ফিরবে এবার তাদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে ট্রেনে চড়তে হলে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজার, এর সঙ্গে যোগ হবে বাড়তি ভাড়ার চাপ। সেই চাপ কিছু্টা হলেও চাপ ফেলবে টানাপোড়েনের সংসারজীবনে।
ট্রেনের ভাড়া সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল ২০১৬ সালে। আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এরপর কয়েকবারই ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্যকর হয়নি। এবার ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে ১০০ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণে রেয়াতি (ছাড়) সুবিধা বাতিলের মাধ্যমে। রেল সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার ও রিজার্ভেশন চার্জ আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো হলে রেলের বার্ষিক রাজস্ব আয় বাড়বে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
এত বড় সংস্থার কাছ থেকে বছরে ৩০০ কোটি টাকা আয় তেমন বেশি কিছু নয়। তবে, লোকসানের তুলনায় তা অনেক বড় প্রাপ্তি বটে; কিন্তু কথা হচ্ছে, বছর বছর কেন লোকসান হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে? রেলওয়ের ‘কালো বিড়াল’ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ও রাষ্ট্র-পরিচালিত রেল পরিবহন সংস্থাটি শুকিয়ে মরলেও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। বাংলাদেশে রেলওয়ে সংস্থার প্রতি প্রধান অভিযোগ টিকিটের কালোবাজারি। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট এক সপ্তহ আগেই সব বুক হয়ে যায়। এমন কি অনলাইন টিকিট বিক্রির পদ্ধতি চালু করেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না। ঈদের আগে তো এই ভোগান্তি বাড়ে আরও বহুগুণ।
প্রশ্ন হচ্ছে, এত ব্যস্ত চলাচল সত্ত্বেও কেন রেলওয়েতে লাভ হচ্ছে না? এখন ভাড়া বাড়িয়েই কি লাভ হবে? নাকি সেই লাভের গুড়ও যাবে সুবিধাভোগীদের পেটে?
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়ে যাত্রীদের কিছু সাধারণ অভিযোগ আছে দীর্ঘদিন ধরে। অধিকাংশ ট্রেনই সময় মেনে চলে না। যাত্রীসুবিধা অত্যন্ত অপ্রতুল। এ কথা সত্য যে, যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসের তুলনায় দূরগামী ট্রেনের ভাড়া এখনো অনেক কম; কিন্তু সময়ক্ষেপণ ও অন্যান্য অসুবিধার কারণে অনেকেই ট্রেনে চড়তে অনাগ্রহী। এই অবস্থায় কেবল ভাড়া বাড়ালেই হবে না, রেলব্যবস্থার মান ও সেবাও বাড়াতে হবে। সেবার মান বাড়লে লাভের আশাও থাকবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে