Views Bangladesh Logo

ব্যাংকিং সঙ্কট ঘিরে বিক্ষোভ, পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

বড় একটি ডিজিটাল ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয় ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

ব্যাংকটির সঙ্গে অতীত ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চাপের মুখে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব অনুমোদন করে দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বৃহৎ ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয়ে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাঁদের জমা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও পেনশন তহবিলের প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান পেনা। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকে আটকে থাকা গ্রাহকদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে পদত্যাগের ঘোষণা সত্ত্বেও অভিশংসন প্রক্রিয়া থামেনি। পেনা জানিয়েছেন, সিনেটে অভিশংসন বিচারে অংশ নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেবেন। এদিকে তাঁর পদত্যাগের পর দেশটির সরকারি বন্ডের দাম কমেছে এবং ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে গুয়ারানির বিনিময়মূল্য।

উয়েনো ব্যাংক ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটিতে হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর গ্রাহকদের হিসাব ও সঞ্চয়ের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি ব্যাংকটির আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন।

ব্যাংকটির সঙ্গে পেনার অতীত ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ব্যাংকটির মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেজের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে নিজের শেয়ার বিক্রি করে দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদের অভিযোগ, ব্যাংকটির বিপর্যয়ের পেছনে স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অর্থের অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়ম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পেনা বলেছেন, বিষয়টি মূলত আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিসংক্রান্ত। কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত।

সংকটের জেরে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন কলোরাডো পার্টির একাংশও পেনার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। একই সময়ে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ চলতে থাকে। প্যারাগুয়ের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা দায়িত্ব গ্রহণের কথা। তবে এ ক্ষেত্রে পদত্যাগ ও অভিশংসনসংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ