Views Bangladesh Logo

তিন গোলের রাতে ইতিহাসের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার প্রথম প্রহরে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলের সঙ্গে যোগ হয়েছে পেদ্রো পোরোর একটি গোল, যাতে ভর করে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচ জিতল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য রাখলেও প্রথম ৩৫ মিনিটে ফিনিশিংয়ে ঘাটতি ছিল স্পেনের। অবশেষে ৩৬ মিনিটে জট খোলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। বাঁ প্রান্ত থেকে মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো বল বক্সের মাঝে পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই জালে জড়ান রিয়াল সোসিয়েদাদ ফরোয়ার্ড। এর আগে ২৮ মিনিটে কুকুরেয়ার আরেকটি গোল বাতিল হয়ে যায় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষককে বাধাদানের অভিযোগে। বিরতির ঠিক আগে আলেক্স বায়েনার একটি ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে, আর তার ফিরতি বল থেকে লামিনে ইয়ামালের শট রুখে দেন অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার।

দ্বিতীয়ার্ধেও বল দখলে-আক্রমণে একচেটিয়া দাপট দেখায় স্পেন। ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। আলেক্স বায়েনার বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মধ্যে থেকে হেডে জালে পাঠান স্পার্স ডিফেন্ডার। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ের ঠিক আগে, ৮৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ওইয়ারসাবাল। ফের একবার অ্যাসিস্ট আসে মার্ক কুকুরেয়ার পা থেকে, ম্যাচজুড়ে বাঁ প্রান্ত থেকে একের পর এক সরবরাহ দিয়ে যাওয়া এই ফুলব্যাকই হয়ে ওঠেন স্পেনের আক্রমণের নীরব কারিগর।

পুরো ম্যাচেই বল দখলে স্পষ্ট প্রাধান্য ছিল স্পেনের। প্রথমার্ধেই অর্ধেকের বেশি সময় বল পায়ে রাখে তারা, যা দ্বিতীয়ার্ধেও অব্যাহত ছিল। মোট ১১টি শট নিয়ে অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক শ্লাগারকে পাঁচবার সেভ করতে বাধ্য করে তারা। বিপরীতে অস্ট্রিয়া মূলত রক্ষণ সংগঠিত রেখে পাল্টা আক্রমণের পথ খুঁজছিল। তাদের সেরা সুযোগ আসে ৬১ মিনিটে। মার্সেল সাবিৎসারের হেড থেকে বল পেয়ে সাসা কালাইজিচের হেড ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া রালফ রাংনিক ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই চারটি পরিবর্তন এনে খেলায় গতি ফেরানোর চেষ্টা করেন, তবে তাতে লাভ হয়নি। উল্টো ৮৩ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন অস্ট্রিয়ার স্টেফান পশ। শেষ দিকে স্পেনও একাধিক পরিবর্তন এনে ৭১ মিনিটে বায়েনার বদলে ফেরান তোরেস, পরে গাভি, ফাবিয়ান রুইজ ও মার্ক পুবিয়াকে নামিয়ে দলকে বিশ্রাম দেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে।

ফিফার অফিসিয়াল ম্যাচ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। লা রোজা ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, যেখানে অস্ট্রিয়ার দখল ছিল ৩৫ শতাংশ। পাসিংয়েও এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা; তারা ৫৭০টি সফল পাস সম্পন্ন করে ৯০ শতাংশ পাস সফলতার হার ধরে রাখে, বিপরীতে অস্ট্রিয়া ২৮৪টি সফল পাস দেয় ৮২ শতাংশ সফলতায়। আক্রমণভাগেও স্পেন ছিল অনেক বেশি কার্যকর; তারা ১০টি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় এবং ৩টি বড় গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়া পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে বড় ব্যবধানের হার এড়ান। ম্যাচে শৃঙ্খলার দিক থেকেও স্পেন এগিয়ে ছিল; তাদের কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখেননি, অথচ অস্ট্রিয়ার স্টেফান পসচ ৮৩তম মিনিটে একমাত্র হলুদ কার্ড দেখেন। দুই দলের কেউই লাল কার্ড পাননি। ২.৮৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে, যেখানে অস্ট্রিয়ার ছিল মাত্র ০.৩২।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে অপরাজেয় ও একবারও গোল হজম না করা স্পেন এই জয়ে প্রমাণ করল কেন তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ইতালি ও জার্মানির মতো নিজেদের বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট ম্যাচ জিততে না পারার যে আক্ষেপ ছিল স্পেনের, আজকের জয়ে সেই খরা কাটল। অন্যদিকে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার নকআউটে ওঠা অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা থামল এখানেই। আগামী ৬ জুলাই ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোয় স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে জয়ী দল।


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ