যুক্তরাষ্ট্রে ৯ দিনে ৭০০০ জনেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

গত দুই সপ্তাহে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭,২০০ জনেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছেন মার্কিন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, অভিবাসন অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দেয়ার পর থেকে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মোট ৭,২৬০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ৫,৭৬৩টি ‘ডিটেইনার অনুরোধ’ পাঠানো হয়েছে, যাতে তাদের নির্বাসনের জন্য অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে বলা হয়।
মূলত নিউইয়র্ক সিটি, শিকাগো ও বোস্টন শহরকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। যেখানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, অস্ত্র এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসীরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইসিই।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কুখ্যাত ‘ট্রেন ডি আরাগুয়া’ এবং ‘এমএস-১৩’ গ্যাংয়ের সদস্যদেরও আটক করা সম্ভব হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কেবল কয়েক ডজন আটককৃতের তথ্য প্রকাশ করেছে আইসিই। যাদের সবাই পূর্বে কোনো না কোনো অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল বা ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিল বা নিজ দেশে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন হোসে ওর্তেগা রামিরেজ, যিনি গত মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়ায় আটক হন। তিনি শিশু পর্নোগ্রাফি এবং মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত। এ ছাড়াও একই দিনে সান ডিয়েগো থেকে গ্রেপ্তার হন সেইডক্সান হিসেন সালিহ। তার বিরুদ্ধে হামলা, মাদক এবং চুরির অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন বর্ডার প্রধান টম হোম্যান বলেছেন, প্রশাসন বর্তমানে কেবল সহিংস অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করছে।
অপরদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, ‘ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কেবল সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে।’
প্রতিদিনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালনাগাদ করেছে আইসিই। সংস্থাটির বুধবারের রিপোর্টে প্রথমে ১,০১৬ জন আটক হওয়ার তথ্য দেয়া হলেও পরে তা সংশোধন করে ৯৬২ জন করা হয়। এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গ্রেপ্তার সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে