Views Bangladesh Logo

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬০ জন, অনাহারে আরও ২৯

গাজা উপত্যকাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। তীব্র ত্রাণ সংকটে অনাহারে মারা গেছেন আরও ২৯ ফিলিস্তিনি, যাদের সবাই শিশু ও বৃদ্ধ।

এই হামলা ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের অংশ। তবে সীমিত পরিমাণে মানবিক সহায়তা এই অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে দেশটি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার (২৩ মে) রাতভর হামলায় সর্বশেষ নিহতদের মধ্যে দক্ষিণে খান ইউনিসে ১০ জন, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে চারজন এবং উত্তরে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের নয়জন রয়েছেন।

নাসের, আল-আকসা এবং আল-আহলি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ট্যাঙ্ক এবং ড্রোন ব্যবহার হামলায় আগুন লেগে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। আল-আওদা হাসপাতালের ফুটেজে ধসেপড়া দেয়াল এবং ঘন কালো ধোঁয়াও দেখা গেছে। আগেরদিনও উত্তর গাজার একটি হাসপাতালে হামলার চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

এদিকে গাজায় অবরোধ তুলে নিতে ও আক্রমণ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল তিনমাস পর সেখানে সীমিত আকারে ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দিলেও এখনো ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি রেডক্রিসেন্টের সভাপতি ইউনিস আল-খাতিব। এ অবস্থায় গাজায় গত তিনদিনে অনাহারে ২৯ শিশু ও বৃদ্ধ মারা গেছেন বলে জানান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অবশ্য অনুমতি পাওয়ায় চলতি সপ্তাহে উপত্যকাটিতে অনাহারক্লিষ্ট অসহায় ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএর মুখপাত্র জেন্স লারকে অবশ্য জানান, ত্রাণ নিয়ে অপেক্ষমাণ প্রায় ২০০টি ট্রাকের মধ্যে ৯০টি গাজায় প্রবেশ করেছে। এগুলোতে ওষুধ, আটা ও পুষ্টিকর সামগ্রী আছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতা, লুটের আশঙ্কা ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়হীনতায় ত্রাণ বিতরণে বড় বাধার মুখে পড়ছে সংস্থাগুলো।

গাজায় অব্যাহত আক্রমণ এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতিশীলতার জন্য বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখোমুখি হচ্ছে ক্রমবর্ধমান ইসরায়েল। তারপরও ১৮ মার্চ নতুন করে অভিযান শুরুর পর থেকে তিনমাস ধরে প্রায় সম্পূর্ণ অবরোধে রেখে নিষ্ঠুর হামলা অব্যাহত রেখেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এখনো গাঁজায় থাকা দুই মিলিয়ন বাসিন্দার অনেকেই আসন্ন দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে। এমনকি ক্ষুধা সংকট সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ।

হামাস আত্মসমর্পণ না করা এবং বাকি ৫৮ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে ইসরায়েল। জিম্মিদের অর্ধেকেরও কম জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ