শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী–সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ইস্তেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বিকেলে ইস্তেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই স্টেডিয়ামে বসার চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান দাবি করেন, বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও তারা বেলা ২টার দিকে এসে দেখেন, ৫০০টি চেয়ারের সবকটিই জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি মঞ্চে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তবে তার কথায় কেউ সাড়া না দেওয়ায় তর্ক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ ২৫–৩০ জন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
লুৎফর রহমান আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানস্থলে জামায়াত–শিবিরের ৮০০ থেকে ১ হাজার নেতাকর্মী রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
তবে বিএনপির অভিযোগ নাকচ করে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিএনপির লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভয়ে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউএনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এদিকে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিকেল ৫টার দিকে ঝিনাইগাতী বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করে উপজেলা বিএনপি। সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন হাতে না নিতে বলেন।
তবে সমাবেশ শেষে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে। এ সময় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বসা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, তখন বিএনপি প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না, জামায়াত প্রার্থী ছিলেন এবং তিনি সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে