ছাত্রদল-শিবিরের সহিংসতায় সারাদিন উত্তপ্ত চার ক্যাম্পাস, আহত শতাধিক
রাজধানী ও বাইরে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, বরিশালের বিএম কলেজ এবং আগের রাতের সংঘর্ষের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।
সংঘর্ষের পর ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যার পরও ন্যাশনাল মেডিকেল, কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে ঢাকা কলেজে বিকেলে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আহত সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক, ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা এবং এক সাংবাদিক রয়েছেন।
অন্যদিকে, সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। শিবিরের নেতাকর্মীরা কারমাইকেল কলেজে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বরিশালের বিএম কলেজ ক্যাম্পাসেও পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
দিনভর সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মতামত দিন