Views Bangladesh Logo

খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে (গ্র্যান্ড মোসাল্লা) খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাঁর শেষকৃত্য ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। শুক্রবার খামেনিকে শ্রদ্ধা জানান বিদেশি প্রতিনিধি ও অতিথিরা। আর শনিবার থেকে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিনটি উন্মুক্ত রাখা হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-র বরাত দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। এর জেরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে অবশেষে চলতি জুলাই মাসে এই শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।

খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল এখন তেহরানে অবস্থান করছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করে। বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নেবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন স্পিকার। আগামী শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই আয়োজনে ৩০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ সরকারি প্রতিনিধি এবং ৯০টিরও বেশি দেশের ধর্মীয় নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্বনেতাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন—পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত দিমিত্রি মেদভেদেভ ( নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট), চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হি ওয়েই ও তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলে থাকছেন পররাষ্ট্র ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা, বিহারের গভর্নর ও সর্বোচ্চ পদাধিকারী শিয়া মুসলিম ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আতা হাসনাইন, বিরোধী দলীয় নেতা সালমান খুরশিদ এবং মেহবুবা মুফতি।

এ ছাড়াও যোগ দেবেন আফগানিস্তান, আজারবাইজান, কাজাখস্তান ও কিউবার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার। আজারবাইজানের প্রতিনিধিত্ব করবেন পার্লামেন্ট স্পিকার সাহিবা গাফারোভা। কাজাখস্তানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ারমেক কোশেরবায়েভ এবং কিউবার পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ড. সি. ওয়াল্টার বালুহা গার্সিয়া উপস্থিত থাকবেন।

ছয় দিনব্যাপী এই বিদায় আয়োজনে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা। তাদের মতে, এটি হতে যাচ্ছে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা ও গণজমায়েত।

সূত্র: আল-জাজিরা

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ