‘ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তি পরিবহন খরচ বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই’
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ক্রেতাদেরই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি মার্স্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিনসেন্ট ক্লার্ক।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লার্ক বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে এমন একটি চুক্তি কাঠামো রয়েছে যেখানে জ্বালানি পরিবহন ব্যয়ের ওঠানামা সরাসরি গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রচলিত চুক্তি ব্যবস্থায় জ্বালানির দামের ওঠানামা বাড়ুক বা কমুক—তা গ্রাহকদের ওপরই সমন্বয় করা হয়। এর অর্থ হলো এই পরিস্থিতিতে যে অতিরিক্ত খরচ তৈরি হচ্ছে, তা আমাদের গ্রাহকদের কাছে চলে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তা ক্রেতাদের ওপরই এসে পড়বে।”
মার্স্কের কনটেইনার শিপিং বিভাগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলনা, পোশাক, ইলেকট্রনিক্সসহ নিত্যপণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ পুনরুদ্ধারের জন্য একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন এক অবস্থায় ফিরে যেতে হবে যেখানে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে।’
বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বহু শিপিং কোম্পানি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
ক্লার্ক বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো নাবিকদের নিরাপত্তা। যতক্ষণ পর্যন্ত ড্রোন হামলার বড় ধরনের ঝুঁকি থাকবে এবং দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কর্মীদের এবং জাহাজগুলোকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন।’
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণ সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করত। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩৮টি জাহাজ এই রুট অতিক্রম করত। যুদ্ধ শুরুর পর তা কমে প্রায় ৮টিতে নেমে এসেছে, অর্থাৎ প্রায় ৯৪ শতাংশ কমে গেছে।
সংঘাতের আগে এই হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হতো, যা বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ।
বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই পথ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিপিং কোম্পানি। জানা গেছে, বহু তেলবাহী ট্যাংকার উপসাগর এলাকায় আটকে রয়েছে।
ইরান সরকার এই অবরোধকে যুদ্ধকালীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানকে তার সব কৌশলগত সম্পদ ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং সেই কারণে হরমুজ প্রণালীকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে