জুলাই সনদে বিরোধীদেরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে: নজরুল ইসলাম খান
জুলাই জাতীয় সনদে শুধু বিএনপি নয়, বর্তমানে সংসদের বিরোধী দলগুলোরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো জনগণের ম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যেসব বিষয়ে কোনো দলের ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলোও সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরা হয় এবং পরে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
জুলাই সনদ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমরা সবসময় বলেছি, যে ডকুমেন্টে আমরা সবাই একমত হয়েছি, সেটাই হলো জনগণের ম্যান্ডেট। সেখানে যার যার মতো নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।' তাঁর দাবি, বিএনপি একা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়নি; বর্তমানে যারা সংসদের বিরোধী দল, তাদেরও সনদের বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো রাজনৈতিক দল যে বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, তা তারা নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহারে তুলে ধরবে এবং জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে। নির্বাচনে জনগণ যদি সেই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দল ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি সবাইকে জুলাই জাতীয় সনদ পড়ে দেখার আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, :আমরা আমাদের কথা থেকে সরি নাই, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিতেই আছি।' অর্থাৎ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অনুষ্ঠানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কারামুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অধিকাংশই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছে। তাদের অনেকেই দেশের বাইরে চলে গিয়ে সেখান থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন