Views Bangladesh Logo

প্রজ্ঞাবান পুরুষ স্ত্রীকে কখনও যে কথা বলেন না, জানালেন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

বিয়ের পর একজন পুরুষের জীবনে স্ত্রী ও বাবা-মা, দুই পক্ষের সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাস করলে সংসারের সিদ্ধান্ত, নিয়মকানুন কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের মতো নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। আর এমন পরিস্থিতিতে স্বামী কীভাবে বিষয়টি সামলাচ্ছেন, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে দাম্পত্য সম্পর্কের পরিবেশ।

সম্পর্ক বিষয়ক ভারতীয় পরামর্শদাতা চেতনা চক্রবর্তী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি স্ত্রীকেও সবকিছু মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে স্ত্রীকে ‘আমার বাবা-মাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার, তোমাকে তাঁদের সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হবে’ ধরনের কথা বলা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

চেতনার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিণত মানসিকতার একজন স্বামী কোনো সমস্যাকে একতরফাভাবে দেখবেন না। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অবস্থান বোঝার পাশাপাশি স্ত্রীর কথাও শুনবেন। দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা মতবিরোধ তৈরি হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করাই হবে তাঁর দায়িত্ব। কারণ স্ত্রীকে প্রতিবারই নিজের ইচ্ছা বিসর্জন দিয়ে মানিয়ে নিতে বলা দাম্পত্যে ধীরে ধীরে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

বিয়ের পর একজন নারী নতুন পরিবারে এসে নতুন পরিবেশ, মানুষ ও পারিবারিক নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ে স্বামী যদি স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তই সবসময় চূড়ান্ত এবং স্ত্রীর কাজ শুধু মানিয়ে নেওয়া, তাহলে স্ত্রীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। তাঁর মনে হতে পারে, সংসারে তাঁর মতামতের গুরুত্ব নেই কিংবা কঠিন সময়ে স্বামী তাঁর পাশে থাকবেন না। এ ধরনের অনুভূতি থেকেই অভিমান, দূরত্ব এবং পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের বিরোধের জন্ম নিতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ত্রীকে বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের মূল জায়গাটি হলো, বিষয়টিকে ‘কে আগে’ বা ‘কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ এমন প্রতিযোগিতায় পরিণত না করা। বাবা-মায়ের প্রয়োজনের সময়ে তাঁদের পাশে থাকা যেমন সন্তানের দায়িত্ব, তেমনি দাম্পত্য জীবনের সিদ্ধান্তে স্ত্রীর মতামত ও অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

শেষ পর্যন্ত একটি সুস্থ সংসারের জন্য প্রয়োজন পক্ষ নেওয়া নয়, বরং ভারসাম্য তৈরি করা। বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা অটুট রেখেও স্ত্রীকে সম্মান, নিরাপত্তা ও নিজের মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া সম্ভব। আর মতবিরোধ দেখা দিলে কাউকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে দু’পক্ষের কথা শুনে সমাধানের পথ খোঁজাই হতে পারে একটি পরিণত দাম্পত্যের পরিচয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ