ঢাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ১
রাজধানীর রামপুরায় ১০ বছর বয়সি এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ঘটনায় মামলার মূল আসামি শিহাব হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ।
বুধবার (২১ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে পাবনা জেলার বেড়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রামপুরা থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টায় ঘটিকায় রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকস্থ আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার ভেতরে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ গামছা প্যাঁচিয়ে মৃত্যুবরণ করে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর রামপুরা থানার একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে মৃতের শরীরে অস্বাভাবিক যৌনাচারের (বলাৎকার) প্রাথমিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, উক্ত মাদরাসা ছাত্র শিহাব হোসেন এর পূর্বেও বিভিন্ন সময়ে আরো ৪ জন ছাত্রের সঙ্গে জোরপূর্বক অনৈতিক ও অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হয়েছিল।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা মোছা. টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তকালে রামপুরা থানার একটি টিম গোয়েন্দা, তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় ৫০ মিনিটে পাবনা জেলার বেড়া থানাধীন থাকছাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত শিহাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তারকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বেড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রামপুরা থানার এসআই একরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে বেড়ায় অভিযান চালায়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলে অবস্থান করছিল। পরে তার বাবার মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাকে বেড়ায় ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রামপুরা থানার পুলিশ তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। অভিযানে বেড়া থানা-পুলিশ সহযোগিতা করে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে