Views Bangladesh Logo

হরমুজ প্রণালিতে দুটি অস্থায়ী নৌপথ চালু করল ওমান, থাকছে না টোল

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুটি অস্থায়ী বিকল্প নৌপথ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। দেশটি জানিয়েছে, নতুন এই রুট ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপ করা হবে না।

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালির বিদ্যমান নৌপথের উত্তর ও দক্ষিণে দুটি অস্থায়ী জলসীমা করিডোর নির্ধারণ করেছে ওমান। এর মাধ্যমে অঞ্চল ত্যাগকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই কৌশলগত নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে।

নাবিকদের জন্য জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ওমান জানায়, বর্তমানে প্রচলিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম (টিএসএস) নিরাপদভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়। ১৯৬৮ সালে অনুমোদিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ওমান ও ইরানের জলসীমায় জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট লেন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ওমানের কর্তৃপক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নতুন ব্যবস্থায় জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং কোন রুটে কখন যাত্রা করবে, সে বিষয়ে পৃথকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে। অনুমোদনের আগে জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত অপেক্ষমান এলাকায় অবস্থান করতে হবে।

ওমান আরও জানিয়েছে, নতুন করিডোর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে উপকূলীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

একই সঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আলোকে প্রথম ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কোনো টোল বা অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হবে না।

তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নৌপথ পরিচালনা, সামুদ্রিক সেবা এবং সম্ভাব্য ব্যয় কাঠামো নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওমানের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সমুদ্রযাত্রার আগে ঝুঁকি মূল্যায়নের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে জাহাজ মালিক ও ক্যাপ্টেনদের ওপর বর্তাবে। এছাড়া যাত্রাকালে জাহাজের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সচল রাখতে হবে এবং যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে ওমান মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারকে দ্রুত অবহিত করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ