Views Bangladesh Logo

উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস, বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

বিশ্ববাজারে সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগস্ট থেকে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে ওপেক প্লাসের ঐকমত্য এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয়ে আসা—এ দুই কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্নের শঙ্কা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

দিনের শুরুর লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৪২ ডলারে।
রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন মিত্রদের জোট ওপেক প্লাস গত রোববার সিদ্ধান্ত নেয়, আগস্টে দৈনিক উৎপাদন বাড়ানো হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল। জুন ও জুলাইয়ের জন্য ঘোষিত বৃদ্ধির পরিমাণও ছিল একই। মূলত এ সিদ্ধান্তের পরই তেলের দাম নিম্নমুখী হয়।

বাজারে আস্থা ফেরার পেছনে আরও একটি কারণ কাজ করছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছিল। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কাও কমে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা এলেও প্রকৃত উৎপাদন এখনো লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। এর পেছনে রয়েছে যুদ্ধ-পরবর্তী বিঘ্নের রেশ এবং চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক ত্যাগ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপ বলছে, জুনে ওপেকের অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মে মাসের তুলনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি বেড়েছে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি। যদিও রপ্তানির এই পরিমাণ এখনো সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে জুনে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো দিয়ে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বৃত্ত অপরিশোধিত তেল যাচ্ছে বিদেশের বাজারে। চলতি মাসেও রপ্তানির এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ